NEWS24-BENGALI.COM

NEWS24-BENGALI.COM

Share

NEWS24-BENGALI.COM brings to provide the latest quality Bengali News(বাংলা খবর, Bangla News) on Health, Tech, and Lifestyle on Digital Platform.

03/08/2026

বর্ষায় কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন? সুস্থ থাকার নিয়মগুলো জেনে নিন

বর্ষাকাল গরম থেকে স্বস্তি দিলেও, এর সাথে নানা ধরনের রোগ ও সংক্রমণের ঝুঁকিও নিয়ে আসে। আয়ুর্বেদ অনুসারে, বর্ষাকালে শরীরের হজমশক্তি (জঠরাগ্নি) দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শরীরে 'বাত' ও 'পিত্ত' দোষের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এ কারণেই বর্ষাকালে পেটের সমস্যা, ভাইরাল জ্বর এবং চর্মরোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এই মৌসুমে অসুস্থতা এড়াতে আয়ুর্বেদে একটি বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের (মনসুন ডায়েট) পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী রাখে।

বর্ষাকালে কী খাবেন?

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে হালকা, উষ্ণ এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার খাওয়া উচিত।

মিষ্টি, টক ও নোনতা খাবার: এই মৌসুমে বেড়ে যাওয়া 'বাত' দোষ প্রশমিত করতে হালকা মিষ্টি, টক এবং সামান্য নোনতা খাবার খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

শস্য ও ডাল: এই মৌসুমে পুরনো গম, বার্লি, চাল এবং মুগ ডাল পরিপাকতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

গরম স্যুপ ও ক্বাড়া: গরম সবজির স্যুপ অথবা আদা, গোলমরিচ ও তুলসী পাতার ক্বাড়া পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

বিশুদ্ধ জল: ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু এড়াতে জল সবসময় ফুটিয়ে এবং সামান্য উষ্ণ অবস্থায় পান করা উচিত। রান্নায় পরিমিত পরিমাণে গরুর দুধের ঘি ব্যবহার করলে হজমশক্তি উন্নত হয়।

বর্ষাকালে কী খাবেন না?

যারা বাইরে খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য বর্ষাকালটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আয়ুর্বেদ অনুসারে, নিচের খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত:

সবুজ শাকসবজি: সাধারণত শাকসবজি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, পালং শাক, মেথি বা বাঁধাকপির মতো শাকসবজিতে এই মৌসুমে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ও কৃমির সংক্রমণ হতে পারে; তাই এগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকুন অথবা ব্যবহারের আগে খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

বাসি ও ঠান্ডা খাবার: ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার, কাঁচা সালাদ এবং ঠান্ডা পানীয় হজম প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করে দেয়।

ভারী ও ভাজাপোড়া খাবার: বৃষ্টির সময় ভাজাপোড়া বা সিঙ্গারা-সমোসা খেতে সবারই ভালো লাগে, কিন্তু আয়ুর্বেদ মতে, অতিরিক্ত ভাজা, মশলাদার এবং ময়দা-জাতীয় খাবার হজম করা কঠিন এবং তা পেটের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

দই ও সামুদ্রিক খাবার: এই মৌসুমে দই খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এটি শরীরে ফোলাভাব বা কফ-এর সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া, বর্ষাকাল মাছের প্রজনন ঋতু হওয়ায় সামুদ্রিক খাবার থেকে দূরে থাকাও জরুরি।

03/08/2026

দিনে কত কাপ ব্ল্যাক কফি পান করা নিরাপদ? জেনে নিন এইমস (AIIMS)-এর চিকিৎসকের মতামত

বর্তমান যুগে, বিশেষ করে যারা ফিটনেস নিয়ে সচেতন, তাদের মধ্যে ব্ল্যাক কফি পানের প্রবণতা অনেক বেড়েছে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে সারাদিন কর্মশক্তি বজায় রাখা—সবকিছুর জন্যই মানুষ দুধ ও চিনি ছাড়া কফি পান করতে পছন্দ করেন। কিন্তু ব্ল্যাক কফি কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য পুরোপুরি উপকারী? অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIMS)-এর চিকিৎসকদের মতে, ব্ল্যাক কফি পানের কিছু চমৎকার উপকারিতা রয়েছে; তবে অতিরিক্ত মাত্রায় পান করলে তা শরীরের মারাত্মক ক্ষতিও করতে পারে।

ব্ল্যাক কফি পানের বিস্ময়কর উপকারিতা

ওজন কমাতে সহায়ক: ব্ল্যাক কফিতে ক্যালোরির পরিমাণ নগণ্য। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে ত্বরান্বিত করে, যার ফলে ফ্যাটি অ্যাসিড সহজে ভেঙে যায় এবং দ্রুত ওজন কমে।

মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমায়: এতে থাকা ক্যাফেইন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে এবং শরীরে ডোপামিনের (যাকে 'হ্যাপি হরমোন' বলা হয়) মাত্রা বাড়ায়; ফলে মেজাজ ভালো থাকে এবং মানসিক চাপ কমে।

ডায়াবেটিস ও লিভারের জন্য উপকারী: গবেষণায় দেখা গেছে যে, পরিমিত পরিমাণে ব্ল্যাক কফি পান করলে TYPE-2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। এছাড়া এটি লিভারের এনজাইমের ভারসাম্য বজায় রেখে ফ্যাটি লিভার ও লিভার ক্যানসারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়: এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং বার্ধক্যজনিত রোগ যেমন আলঝেইমার বা পারকিনসন্স-এর ঝুঁকি কমায়।

অতিরিক্ত পানের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি

AIMS-এর একজন চিকিৎসকের মতে, ব্ল্যাক কফি অতিরিক্ত পান করলে শরীরে ক্যাফেইনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা নিম্নলিখিত সমস্যাগুলোর কারণ হতে পারে:

অনিদ্রা ও উদ্বেগ: রাতে বা অনেক দেরিতে কফি পান করলে ঘুমের চক্র ব্যাহত হতে পারে এবং উদ্বেগ বাড়তে পারে।

পাকস্থলীর সমস্যা: খালি পেটে অতিরিক্ত ব্ল্যাক কফি পান করলে অ্যাসিডিটি, গ্যাস এবং পেটে মোচড় বা ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে।

পুষ্টির ঘাটতি: এটি শরীরে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণে বাধা দেয়, যার ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

দিনে কতটা কফি পান করা নিরাপদ?

চিকিৎসকদের মতে, একজন সুস্থ ব্যক্তির জন্য দিনের বেলা ২ থেকে ৩ কাপ (প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনযুক্ত) ব্ল্যাক কফি পান করা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উপকারী। তবে ঘুমের ব্যাঘাত এড়াতে সূর্যাস্তের পর বা ঘুমানোর ৬ ঘণ্টা আগে এটি পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

02/08/2026

কয়েক মিনিটেই মুখে আসবে উজ্জ্বলতা, ঘরেই করুন এই সহজ উপায়টি

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠেই এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন। একটি পাত্রে বরফ ও জল নিন এবং তাতে আপনার মুখ ডুবিয়ে রাখুন। এই পদ্ধতিটি আপনার মুখে উজ্জ্বলতা এনে দেবে।

আজকাল সবাই উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক পেতে চায়। এর জন্য অনেকেই মুখে নানা ধরনের রাসায়নিক পণ্য ব্যবহার করেন। কিন্তু অনেক সময় রাসায়নিক পণ্য ব্যবহার করেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। আপনি কি জানেন, কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমেই উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া সম্ভব।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই মুখে বরফ-জলের এই সহজ পদ্ধতিটি প্রয়োগ করতে পারেন। এটি আপনার মুখে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনবে এবং ত্বকের সূক্ষ্ম রেখা বা 'ফাইন লাইনস' (fine lines) কমাতেও সাহায্য করবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক উজ্জ্বল ত্বকের জন্য কী করতে হবে।

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ঘরোয়া উপায়

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠেই এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন। একটি পাত্রে বরফ ও জল নিন এবং তাতে আপনার মুখ ডুবিয়ে রাখুন। এই পদ্ধতিটি আপনার মুখে উজ্জ্বলতা এনে দেবে।

সূক্ষ্ম রেখা বা বলিরেখা কমানো সম্ভব

সকালে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বার এই জলে মুখ ডুবিয়ে রাখতে পারেন। ঠান্ডা জলে মুখ ডোবালে ত্বকের লোমকূপ সংকুচিত হয়, ফলে ত্বক আরও স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে মুখের ফোলাভাব কমে এবং ধীরে ধীরে সূক্ষ্ম বলিরেখা বা রেখাগুলোও হ্রাস পায়।

বরফ-জল থেরাপি (Ice water therapy)

২৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের জন্য এই পদ্ধতিটি বেশ উপকারী, কারণ সাধারণত এই বয়সের পর থেকেই মুখে বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করে। তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি উপযুক্ত নয়। বরফ-জল থেরাপি মুখের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা পেতে আপনি এই থেরাপিটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।



https://news24-bengali.com/lifestyle/get-a-glowing-complexion-in-just-a-few-minutes-with-this-simple-at-home-method.html

02/08/2026

শিশুদের কি উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে? বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিন এর লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

শিশুদেরও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হতে পারে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই বয়সে প্রায়শই কোনো স্পষ্ট বা গুরুতর লক্ষণ দেখা যায় না। অনেক সময় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (রুটিন চেক-আপ) সময় বাবা-মায়ের নজরে আসে যে শিশুটি এই সমস্যায় ভুগছে। আপনি কি জানেন, দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা না করা হলে এটি শিশুদের হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা এবং অন্যান্য বিপাকীয় জটিলতার কারণ হতে পারে? শিশুদের উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ সম্পর্কে ডা. অভিজিৎ প্রকাশ যাদব (কনসালট্যান্ট, নিওনেটোলজি ও পেডিয়াট্রিক্স বিভাগ, কৈলাশ দীপক হাসপাতাল) কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করেছেন যে শিশুদেরও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। অনেক বাবা-মা এ কথা শুনে অবাক হন, কারণ তাঁরা সাধারণত মনে করেন উচ্চ রক্তচাপ কেবল প্রাপ্তবয়স্কদেরই হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যাটি ক্রমশ বাড়ছে। এর লক্ষণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন, তা নিচে দেওয়া হলো...

বিশেষজ্ঞের মতামত

শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি একটি বড় কারণ। উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও শিশুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়লে স্থূলতাকেই একমাত্র কারণ হিসেবে ধরা হয় না; আমরা কিডনির রোগ, হৃদরোগ বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোও খতিয়ে দেখি, কারণ প্রায়শই এগুলিই প্রকৃত কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শিশুদের ক্ষেত্রে কখন উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে?

বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষণ থাকে না; তাই একে প্রায়শই 'নীরব সমস্যা' (silent condition) বলা হয়। অনেক শিশুকেই সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হয় এবং সাধারণত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় রক্তচাপ মাপার পরই এই সমস্যাটি ধরা পড়ে।

যেসব লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি:

রক্তচাপ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে গেলে শিশুর ঘন ঘন মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দৃষ্টি, অত্যধিক ক্লান্তি বা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে অসুবিধার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি কোনো কোনো শিশুর নাক দিয়ে রক্তও পড়তে পারে। রক্তচাপ অত্যধিক বেড়ে গেলে খিঁচুনিও হতে পারে; এমন পরিস্থিতি একটি জরুরি চিকিৎসাগত অবস্থা (medical emergency) হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ডা. অভিজিৎ বাবা-মাকে পরামর্শ দেন যেন তাঁরা লক্ষণ প্রকাশের জন্য অপেক্ষা না করেন। যদি কোনো শিশুর ওজন বেশি থাকে, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগ থাকে অথবা পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের জোরালো ইতিহাস থাকে, তবে নিয়মিত তাদের রক্তচাপ পরীক্ষা করানো উচিত। দ্রুত শনাক্তকরণ কার্যকর ব্যবস্থাপনার সুযোগ করে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুর হৃৎপিণ্ড, বৃক্ক, মস্তিষ্ক ও রক্তনালিকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।



https://news24-bengali.com/lifestyle/if-children-have-high-blood-pressure-consult-a-specialist-to-learn-about-the-symptoms-and-ways-to-prevent-it.html

02/08/2026

বর্ষাকালে মূত্রনালীর সংক্রমণও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, জেনে নিন কারণ ও চিকিৎসা

বর্ষাকালে সাধারণ মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউটিআই (UTI)-কে হালকাভাবে নেওয়াটা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। শুরুতে এটি হয়তো সামান্য সমস্যা মনে হতে পারে—যেমন প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ বা তলপেটে হালকা ব্যথা। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে সংক্রমণটি কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে কম বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে অবহেলার ফলে মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, নারী ও মেয়েরা প্রায়ই ভেজা কাপড় পরে থাকা বা পর্যাপ্ত জল পান না করার মতো ভুলগুলো করে থাকেন। বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে এবং এ ধরনের অবহেলা বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। আসুন চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ইউটিআই(UTI)-এর প্রধান কারণ ও প্রতিরোধের উপায়গুলো জেনে নিই...

কেন মূত্রনালীর সংক্রমণ হয়?

ডা. মনীষা অরোরা (পরিচালক, ইন্টারনাল মেডিসিন, সিকে বিড়লা হাসপাতাল)-এর মতে, দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরে থাকা, পর্যাপ্ত জল পান না করা এবং বৃষ্টিতে ভেজার পর পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখার ফলে বর্ষাকালে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এর ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। উচ্চ জ্বর, কাঁপুনি, কোমরের নিচের অংশের একপাশে তীব্র ব্যথা, বমি বা অত্যধিক দুর্বলতার মতো লক্ষণগুলো ইঙ্গিত দিতে পারে যে সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া টোটকা বা নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার ওপর নির্ভর না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা ও ইউরিন কালচার পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ শনাক্ত করা হয় এবং সেই অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। আশার কথা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অধিকাংশ ইউটিআই(UTI)-এর চিকিৎসা সহজেই করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়।

বর্ষাকালে ইউটিআই-এর প্রকোপ বৃদ্ধি

ডা. সি.এস. মিত্রেয়ী (সিনিয়র কনসালট্যান্ট, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ) জানান যে, নারীদের মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণ সরাসরি বৃষ্টি নয়, বরং এই ঋতু-সম্পর্কিত কিছু অভ্যাস ও পরিস্থিতি। উচ্চ আর্দ্রতা, ঘাম, দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরে থাকা, কম জল পান করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। বর্ষাকালে তৃষ্ণা কম অনুভূত হওয়ায় অনেকেই জল কম পান করেন; এর ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং মূত্রনালিতে ব্যাকটেরিয়া সহজেই টিকে থাকতে পারে।

লক্ষণ ও চিকিৎসা

প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, দুর্গন্ধযুক্ত বা ঘোলাটে প্রস্রাব এবং কখনও কখনও প্রস্রাবের সাথে রক্ত বেরিয়ে​যাওয়া। এছাড়া উচ্চ জ্বর, কাঁপুনি, কোমরের নিচের দিকে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমির মতো গুরুতর জটিলতাও দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিস রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সময়মতো রোগ নির্ণয়, সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এবং পর্যাপ্ত পানি জল করা—এই বিষয়গুলো সংক্রমণকে গুরুতর আকার ধারণ করা থেকে রোধ করতে অত্যন্ত কার্যকর।

কিডনি সংক্রমণের ঝুঁকি

আকাশ হেলথকেয়ার মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালের নেফ্রোলজি ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিভাগের প্রধান পরিচালক ডা. বিক্রম কালরার মতে, মানুষ প্রায়ই মনে করেন যে মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI) নিজে থেকেই সেরে যাবে; কিন্তু এই ধরনের অবহেলার কারণে সংক্রমণটি অনেক সময় কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্ষাকাল সরাসরি ইউটিআই (UTI)-এর কারণ না হলেও, এই সময়ের আর্দ্রতা, উষ্ণতা এবং বিশেষ কিছু জীবনযাত্রার অভ্যাসের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অধিকাংশ ইউটিআই(UTI) সংক্রমণের জন্য ই. কোলাই(E. coli) ব্যাকটেরিয়া দায়ী।



https://news24-bengali.com/lifestyle/uti-can-occur-during-the-rainy-season-know-the-causes-and-treatment.html

02/08/2026

মুখের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বাড়িতেই তৈরি করুন মসুর ডালের ফেস প্যাক

আজকাল সবাই মেকআপ ছাড়াই পরিষ্কার, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে চান। তবে বাজারে পাওয়া যায় এমন কিছু স্কিনকেয়ার পণ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদান দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোই নিরাপদ ও সেরা বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এমনই একটি কার্যকরী উপায় হলো মসুর ডালের ফেস প্যাক। এটি ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে, মৃত কোষ দূর করে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আনে।

মসুর ডালের ফেস প্যাকের উপকারিতা

মসুর ডালে রয়েছে প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং আরও অনেক পুষ্টি উপাদান যা ত্বকের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। এই ফেস প্যাকটি ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে এবং মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যবহারে রোদে পোড়া ভাব (ট্যান) কমে এবং ত্বক আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখায়।

ফেস প্যাক তৈরির উপকরণ

২ টেবিল চামচ মসুর ডাল

১ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ

১ টেবিল চামচ মধু

৪-৫ ফোঁটা গোলাপ জল

মসুর ডালের ফেস প্যাক তৈরির পদ্ধতি

প্রথমে মসুর ডালগুলো সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে জল ঝরিয়ে মিক্সারে ডালগুলো বেটে বা পিষে মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এতে কাঁচা দুধ, মধু ও গোলাপ জল মিশিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড বা মিক্স করে নিন। আপনার প্রাকৃতিক ফেস প্যাকটি ব্যবহারের জন্য তৈরি।

সঠিক ব্যবহারের নিয়ম

প্রথমে পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। এরপর পুরো মুখ ও গলায় ফেস প্যাকটি সমানভাবে লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট শুকাতে দিন। প্যাকটি শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন এবং এরপর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বক পরিষ্কার, কোমল ও সতেজ অনুভব হবে।



https://news24-bengali.com/lifestyle/make-a-red-lentil-face-pack-at-home-to-boost-your-skins-radiance.html

29/07/2026

অন্ত্রের স্বাস্থ্য (Gut Health) বিষয়ক তথ্য: অন্ত্রের স্বাস্থ্য আসলে কী? প্রচলিত কিছু ভুল ধারণাগুলো আপনার ক্ষতি করতে পারে

অন্ত্রের স্বাস্থ্য কেবল পাকস্থলীর অবস্থাকেই নির্দেশ করে না। এর মধ্যে কেবল পাকস্থলীই নয়, বরং ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদান্ত্র, খাদ্যনালী, যকৃৎ (লিভার), অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়াও অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে; সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি হলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য কেবল পাকস্থলীর সাথেই সম্পর্কিত—যা সঠিক নয়। এই বিষয়ে অ্যাপোলো স্পেকট্রা হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সাদ আনোয়ার কিছু তথ্য শেয়ার করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, আজকাল "অন্ত্রের স্বাস্থ্য" শব্দটি প্রায়ই শোনা গেলেও এটি নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হলো যা আপনার জানা প্রয়োজন...

অন্ত্রের স্বাস্থ্য কী?

বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন যে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য বলতে কেবল পাকস্থলীর সুষ্ঠু কার্যকারিতাকেই বোঝায় না; এর মধ্যে অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য, সঠিক হজম প্রক্রিয়া এবং পুষ্টির কার্যকর শোষণও অন্তর্ভুক্ত। যদি খাবার সঠিকভাবে হজম হয়, পুষ্টি শোষিত হয়, মলত্যাগ নিয়মিত থাকে এবং অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় থাকে, তবেই আপনার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো বলে গণ্য করা হয়।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অন্ত্রের স্বাস্থ্য সরাসরি আমাদের অন্ত্রের সাথে যুক্ত, যাকে প্রায়শই শরীরের "দ্বিতীয় মস্তিষ্ক" বলা হয়। অন্ত্র কেবল হজম প্রক্রিয়ার সাথেই নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথেও যুক্ত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কথা বললে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই অন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত। একটি সুস্থ অন্ত্র ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক ভুল ধারণা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত

ডিটক্স ড্রিংক বা পানীয় নিয়ে ভুল ধারণা: ডা. সাদ আনোয়ার উল্লেখ করেন যে, মানুষ প্রায়ই মনে করে প্রতিদিন প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ বা ডিটক্স ড্রিংক পান করলেই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, কিন্তু বিষয়টি সবসময় এমন নয়। প্রতিটি মানুষের অন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ সবসময় উপকারী নাও হতে পারে।

অন্ত্র নিয়ে বিভ্রান্তি: আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো—পেটে ব্যথা, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্য না থাকা মানেই অন্ত্র সম্পূর্ণ সুস্থ; অথচ অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই অন্ত্র-সংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা: অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ, প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক (যেমন—দই) খাওয়া, শরীরে জলের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।

অ্যান্টিবায়োটিকের ভূমিকা: এছাড়া অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়, কারণ এগুলো অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হজমজনিত সমস্যাকে উপেক্ষা না করে বরং একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

দই ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য: অনেকেই মনে করেন যে কেবল দই খেলেই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। যদিও দই প্রোবায়োটিকের একটি চমৎকার উৎস, তবুও শুধুমাত্র এর ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন যে, অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন প্রয়োজন—যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আঁশযুক্ত খাবার, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুম।

29/07/2026

ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীরে কী ঘটে? সুস্থ হয়ে ওঠার ধাপগুলো সম্বন্ধে একজন চিকিৎসকের থেকে জানুন

ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্তটি একজন মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। ধূমপান বন্ধ করার ঠিক পরপরই শরীর নিজে থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু করে। যদিও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি ধীরগতির, তবুও ধূমপান ছাড়ার কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করে, যা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বিডিআর ফার্মাসিউটিক্যালস-এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. অরবিন্দ বাডিগার ব্যাখ্যা করেছেন যে, ধূমপান ছাড়ার পদক্ষেপ নিলে শরীর মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।

শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন (কয়েক মিনিট থেকে কয়েক সপ্তাহ)

ডা. অরবিন্দ-এর মতে, ধূমপান বন্ধ করার সাথে সাথেই শরীরে দ্রুত কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে:

২০ মিনিট: হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

১২ ঘণ্টা: কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা কমে এবং অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

২৪-৭২ ঘণ্টা: শ্বাসনালী বা ব্রঙ্কিয়াল টিউবগুলো শিথিল হতে শুরু করে, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ হয়।

২-১২ সপ্তাহ: রক্ত সঞ্চালন এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত হয়।

ডা. অরবিন্দ বলেন, "এই দ্রুত পরিবর্তনগুলো প্রমাণ করে যে ক্ষতিকর উপাদান গ্রহণ বন্ধ করার সাথে সাথে শরীর কীভাবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। দীর্ঘদিনের ধূমপায়ীদের হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত কমতে শুরু করে। এটি ধূমপান ছাড়ার পর শরীরের সেরে ওঠার সক্ষমতাকেই তুলে ধরে।"

সুস্থ হয়ে ওঠা এবং রোগের ঝুঁকি কমানো (কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর)

দীর্ঘ সময় ধরে ধূমপান থেকে বিরত থাকলে শরীর সেরে ওঠে এবং রোগের ঝুঁকি কমে, যার ফলাফলগুলো নিম্নরূপ:

১ বছর: করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

৫ বছর: রক্তনালীগুলোর অবস্থার উন্নতির ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

১০ বছর: নিয়মিত ধূমপায়ীদের তুলনায় ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে কমে যায়।

১৫ বছর: হৃদরোগের ঝুঁকি একজন অধূমপায়ীর শরীরের ঝুঁকির প্রায় সমান পর্যায়ে নেমে আসে।

এই সমস্ত ইতিবাচক ফলাফল প্রমাণ করে যে, ধূমপান ছাড়ার অর্থ কেবল শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব এড়ানোই নয়; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও সহায়তা করে।

নিকোটিন প্রত্যাহারজনিত প্রতিক্রিয়া এবং ফুসফুসের নিরাময়

ধূমপান ছাড়ার শুরুর দিনগুলোতে মস্তিষ্ক নিকোটিনের অভাবের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে; কারণ নিকোটিন এমন একটি উপাদান বা মাদক যার সাথে শরীর দীর্ঘ সময় ধরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এর ফলে, যারা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান তারা বিভিন্ন ধরনের ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম’ বা প্রত্যাহারজনিত উপসর্গের সম্মুখীন হন; যেমন—আবার ধূমপান করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, মেজাজের ওঠানামা, খিটখিটে ভাব, উদ্বেগ বেড়ে যাওয়া, মনোযোগের অভাব, ঘুমের ধরনে পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন। তবে একই সাথে, এই পর্যায় থেকেই শ্বসনতন্ত্রের সেরে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফুসফুসের ভেতরে থাকা অতি ক্ষুদ্র লোমশ অংশগুলো (সিলিয়া) পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং জমে থাকা শ্লেষ্মা বা কফের সাথে ক্ষতিকর পদার্থগুলো শরীর থেকে বের করে দিতে শুরু করে।

ধূমপান ছেড়ে দেওয়া কেন যুক্তিযুক্ত?

ডা. অরবিন্দ উল্লেখ করেন যে, ধূমপান বর্জন করলে শরীরে নিরাময়মূলক প্রক্রিয়ার একটি ধারাবাহিকতা শুরু হয়, যা শরীরের প্রায় প্রতিটি তন্ত্রের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যদিও নিকোটিন প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট উপসর্গগুলো বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে, তবুও সেগুলো সাময়িক এবং সঠিক পরামর্শ (কাউন্সেলিং) ও প্রয়োজনে নিকোটিন থেরাপির মাধ্যমে সামলানো সম্ভব। স্বল্পমেয়াদে যে সাময়িক অস্বস্তি হতে পারে, তার তুলনায় দীর্ঘমেয়াদী সুফলগুলো—যেমন ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যাওয়া—অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

28/07/2026

আপনি কি রোজ আটার রুটি খান? এতে কোনো বিপদ ডেকে আনছেন না তো !

ভারতীয়দের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে গমের আটার ভূমিকা অনস্বীকার্য। সকালের নরম রুটি থেকে রাতের গরম পরোটা—আটা ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিটনেস সচেতনদের মধ্যে সম্প্রতি 'নো হুইট ফ্লাওয়ার' (বা গম বর্জন)-এর একটি নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক পুষ্টিবিদ এবং ফিটনেস সচেতন মানুষ এখন খাদ্যতালিকা থেকে গমের আটা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, গমের আটা খেলে ওজন বৃদ্ধি, শরীরে চর্বি জমা এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু আটার রুটি খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? এটি কি সত্যিই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়?

আপনিও যদি এই দ্বিধায় ভুগে থাকেন, তবে এই নিবন্ধটি আপনার জন্য। ফোর্টিস হাসপাতালের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. শুভম ভাটসাল ব্যাখ্যা করেছেন যে, গমের আটা মূলত স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে ভুল পরিমাণে বা ভুল পদ্ধতিতে এটি খেলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞ ঠিক কী বলছেন?

ডা. শুভম ভাটসাল জানান, আটা সবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে ভুলভাবে বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে তা ক্ষতিকর হতে পারে। প্রথমেই মনে রাখা প্রয়োজন যে, আটা হলো একটি 'কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট' বা জটিল শর্করা, যাতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুটেন থাকে। তাই যাদের গ্লুটেন অ্যালার্জি বা সিলিয়াক ডিজিজ (celiac disease) আছে, তাদের গমের আটা এড়িয়ে চলা উচিত।

আটার রুটি কেন ক্ষতিকর হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে তিনবার বা অতিরিক্ত পরিমাণে আটার রুটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই অভ্যাস বজায় থাকলে ওজন বাড়তে পারে এবং এটি ফ্যাটি লিভারের একটি প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তাহলে, গমের আটা খাওয়ার সঠিক উপায় কী?

এর মানে এই নয় যে আপনাকে খাদ্যতালিকা থেকে গমের আটা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। আপনি স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিতে পারেন। গমের আটার সঙ্গে অন্যান্য পুষ্টিকর শস্যের আটা মিশিয়ে নিলে সামগ্রিক গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Glycemic Index) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে গমের আটার সাথে জোয়ারের (sorghum) আটা মিশিয়ে রুটি তৈরির চেষ্টা করুন; এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে: শরীরে প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে গমের আটার সাথে বাজরার (pearl millet) আটা মেশানো অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।

রক্তাল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি মোকাবিলায়: আপনি যদি রক্ত​বা আয়রনের অভাবে ভুগে থাকেন, তবে রাগির (finger millet) আটা মেশানোই হবে সেরা উপায়।

জোয়ার, বাজরা এবং রাগি—এসবই পুষ্টিগুণে ভরপুর। গমের আটার সাথে এগুলি মিশিয়ে 'মাল্টিগ্রেইন' বা মিশ্র শস্যের আটা তৈরি করলে তা কেবল দ্রুত ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, বরং প্রোটিন ও আয়রনের ঘাটতি পূরণেও সহায়তা করে। তাই গমের আটা পুরোপুরি বর্জন না করে বরং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনুন—এতে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে!

প্রতিদিন ছাতু খাচ্ছেন? এতে ওজন বেড়ে যাচ্ছে না তো? জানুন 28/07/2026

প্রতিদিন ছাতু খাচ্ছেন? এতে ওজন বেড়ে যাচ্ছে না তো? জানুন

বাঙালিদের কাছে গ্রীষ্মের দাবদাহ মোকাবিলার এক পরীক্ষিত উপায় হলো ছাতু। ঘামে ভেজা শরীরে বাড়ি ফিরে এক গ্লাস ঠান্ডা ছাতুর শরবত পান করলে মন-প্রাণ সতেজ হয়ে ওঠে। শরীর ঠান্ডা রাখতে ও শক্তি ফিরে পেতে সব বয়সের মানুষই গ্রীষ্মকালে এই ঐতিহ্যবাহী পানীয়টির ওপর ভরসা রাখেন। তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়: প্রতিদিন এই পানীয় পান করলে কি দ্রুত ওজন বেড়ে যেতে পারে? স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিদের মনে প্রায়ই এমন সংশয় দেখা দেয়।

অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা যে, নিয়মিত ছাতু খেলে শরীরে মেদ জমে। কিন্তু বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন কথা বলেন। আসলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ছাতু দারুণ কার্যকর। পুষ্টিবিদদের মতে, ভাজা ছোলা থেকে তৈরি এই উপাদানটিতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকে। শুধু জলের সঙ্গে মিশিয়ে এটি পান করলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়। ফলে বারবার বাইরের খাবার বা অস্বাস্থ্যকর অথচ সুস্বাদু খাবার খাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়। পরোক্ষভাবে এটি স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমাতে দারুণ সহায়তা করে।

তবে ঝুঁকিটা থাকে পানীয়টি তৈরির পদ্ধতির ওপর। পুষ্টিবিদরা সতর্ক করেন যে, স্বাদ বাড়াতে যদি এতে প্রচুর চিনি বা গুড় মেশানো হয়, তবে ওজন বেড়ে যাওয়া অনিবার্য। অনেকে আবার এর সঙ্গে দুধ, কাজু বাদাম, কিসমিস বা ঘি মিশিয়ে থাকেন। এসব উপাদান মেশালে ক্যালোরির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। তাই ওজন কমানো যদি আপনার লক্ষ্য হয়, তবে পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে সঠিক পরিমাণে ও সঠিক পদ্ধতিতে এটি খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

এর উপকারিতা কি কেবল ওজন কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ? ছাতুর আরও অনেক গুণ রয়েছে:

হজমশক্তি বাড়ায়: এতে প্রচুর ফাইবার থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমে সহায়তা করে।

জলশূন্যতা রোধ করে: তীব্র গরমে শরীর থেকে দ্রুত জল বেরিয়ে যেতে পারে; এই পানীয় শরীরের জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে: এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) কম, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ পানীয় (তবে শর্ত থাকে যে, এটি চিনি ছাড়া পান করতে হবে)।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদান ও ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্য ভাবে শক্তিশালী করে।

হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য: নিয়মিত পানে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

তাহলে, চিনি বা গুড় ছাড়াই কীভাবে এই পানীয়টিকে সুস্বাদু করে তুলবেন?

পদ্ধতিটি খুবই সহজ। এক গ্লাস ঠান্ডা জলে পরিমাণ মতো ছাতু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর এতে সামান্য বিট লবণ, ভাজা জিরার গুঁড়া, লেবুর রস এবং কুচি করা তাজা পুদিনা পাতা যোগ করুন। স্বাদ ও স্বাস্থ্যের চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখা এই স্বাস্থ্যকর পানীয়টি একবার চেখে দেখতে পারেন। গ্রীষ্মকালে নিশ্চিন্তে উপভোগ করুন এই সতেজকারক পানীয়—প্রস্তুত প্রণালীতে সামান্য অদলবদলই কিন্তু দারুণ পার্থক্য গড়ে দিতে পারে!

প্রতিদিন ছাতু খাচ্ছেন? এতে ওজন বেড়ে যাচ্ছে না তো? জানুন বাঙালিদের কাছে গ্রীষ্মের দাবদাহ মোকাবিলার এক পরীক্ষিত উপায় হলো ছাতু(Chhatu)। ঘামে ভেজা শরীরে বাড়ি ফিরে এক গ্লাস ঠান্.....

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Santipur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


SahaNikari Para Lane
Santipur
741404