Prime Time at Sixty

Prime Time at Sixty

Share

Welcome to “Prime Time At Sixty”! Explore, connect, and create memories that sparkle like stars🌟.

27/09/2026

রাতের আঁধার ও ক্ষমতার স্বাভাবিক গতি
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
———————————————————————
আমাদের দেশে আইন আর নিয়মকানুন অনেকটা রাস্তার ফুটপাতের মতো—সবাই জানে ওটা পথচারীদের হাঁটার জন্য, কিন্তু সবাই ধরে নেয় ওটা দোকান বসানোর কিংবা বাইক চালানোর সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গা। কোনো স্থাপনা যদি অবৈধই হয় বা জমি নিয়ে বিরোধ থাকে, তবে তার সমাধান করার জন্য আদালত, পুলিশ আর আইনি নোটিশের একটা দীর্ঘ কাগজপত্রীয় পথ তৈরি করা ছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে টেবিল-চেয়ার গুড়িয়ে দেওয়াটাই যখন মীমাংসার একমাত্র পথ হয়ে ওঠে, তখন বুঝতে হবে বিচারব্যবস্থা এখন আর আদালতের এজলাসে নেই, চলে গেছে ক্ষমতাধরদের হাতুড়ির ঘায়ে।
গত ৫ আগস্টের পর দেশের তারুণ্য যখন রাজপথে এক নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর ছবি আঁকছিল, তখন ক্ষমতার বাস্তব রাজনীতি ব্যস্ত ছিল পুরানো সিন্ডিকেটগুলোর মালিকানা হস্তান্তরে। ক্ষমতার হাতবদল হলে সম্পত্তির মালিক বদলায়, কিন্তু দখলের ক্ষুধা আর চাঁদাবাজির পদ্ধতি বদলায় না। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। অভিযোগের তির যেদিকেই যাক—তা চাঁদা না দেওয়ার শাস্তি হোক কিংবা জমি দখলের তাগিদ—খোদ প্রধান উপদেষ্টা বা সরকারের কেন্দ্রবিন্দুর নাকের ডগায় বসে এমন কাজ করার দুঃসাহস কেবল রাজনৈতিক আস্কারাই দিতে পারে।
যে বিএনপি একসময় বিগত সরকারের নির্যাতন ও দখলের শিকার হয়েছিল, তাদেরই একাংশের ক্যাডাররা আজ সারাদেশে একই কায়দায় দখলদারিত্বের উত্তরাধিকার বহন করছে। ক্ষমতার এই সংস্কৃতিতে চেহারার বদল ঘটে, কিন্তু আচরণের কোনো সংস্কার হয় না। যে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট আগে এক পতাকার অধীনে চলত, তা এখন নতুন পতাকার নিচে আরও দ্বিগুণ উৎসাহে বহাল আছে। যারা কাল পর্যন্ত মজলুম ছিল, তারা আজ ক্ষমতার সামান্য স্পর্শ পেয়েই কীভাবে জালিম হয়ে উঠতে পারে—আমাদের রাজনীতি প্রতিনিয়ত এই পুরোনো নাটকেরই পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হলো, এসব তাণ্ডব যখন ঘটে, তখন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। আইন যখন শক্তিশালী মানুষের ক্ষমতার কাছে মাথা নোয়ায়, তখন সাধারণ মানুষকে শুধু অসহায় হয়ে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। পরিবর্তন বা নতুন বন্দোবস্তের যত মিষ্টি কথাই শোনানো হোক না কেন, সাধারণ নাগরিকেরা কেবল এক দল নতুন মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে।
রাষ্ট্র কেবল দালানকোঠা বা সীমানা দিয়ে তৈরি হয় না, রাষ্ট্র বাঁচে আইনের সমান প্রয়োগে। যেদিন ক্ষমতার দাপট আর হাতুড়ির চেয়ে আইনের শাসন বড় হয়ে উঠবে, কেবল সেদিনই মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। নতুবা রাতের আঁধারে ভাঙচুর হওয়ার ভয় আর ক্ষমতার দাসত্বই আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে থাকবে।

নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

রম্য

27/09/2026

সাঁড়াশি আক্রমণ ও একটি হাসপাতালের মহাপ্রয়াণ
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
———————————————————————
আমাদের দেশে ‘সাঁড়াশি আক্রমণ’ শব্দবন্ধটি সাধারণত জঙ্গি দমন, আন্তর্জাতিক অপরাধী পাকড়াও কিংবা সীমানা রক্ষার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করার কথা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক শক্তির অভিনব উদ্ভাবনী ক্ষমতায় এবার সেই কঠিন সামরিক কৌশল প্রয়োগ করা হলো শিশুদের জীবনদায়ী টিকা আর স্যালাইনের বোতলের বিরুদ্ধে। মিরপুরের রাড্ডা হাসপাতালের ওপর যেভাবে পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং বিএনপির দুই নারী এমপির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী চড়াও হলো—তা দেখে মনে হতে পারে, এই সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল ওই হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাব আর ফার্স্ট এইড বক্স।
ক্ষমতা যখন অন্ধ এবং হিংস্র হয়, তখন তার কাছে কোনটা চিকিৎসালয় আর কোনটা যুদ্ধক্ষেত্র—সেই বোধটুকু বিলুপ্ত হয়ে যায়। রাজনীতির অনুসারী ও ক্যাডাররা যখন যৌথ বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানে ঢোকে, তখন তাদের লক্ষ্য নিরাময় নয়, বরং বিনাশ। রাড্ডা হাসপাতালে হামলা চালিয়ে যেভাবে মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধপত্র এবং শিশুদের ভ্যাকসিন লুটপাট করা হলো, তা কেবল ডাকাতি নয়; তা হলো ক্ষমতার নতুন দাবিদারদের চরম নৈতিক দেউলিয়াত্বের উন্মোচন। যে দলেরই নেতা বা এমপি হোক না কেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে তাদের এমন তাণ্ডব প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রব্যবস্থা এখন অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
আমলাতন্ত্র আর পুলিশের কাজ ছিল আইনের শাসন নিশ্চিত করা। অথচ তারা হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ক্যাডারদের সহকারী। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কিংবা পুলিশের নাকের ডগায় বসে যখন লাইফ-সেভিং ওষুধ আর শিশুদের ভ্যাকসিন লুট হয়, তখন বুঝতে হবে আইনশৃঙ্খলা কোনো ব্যবস্থার নাম নয়—তা কেবল যার হাতে ক্ষমতা, তার নির্দেশিত হিংসার প্রতিশব্দ। এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রধান ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, যাদের মৌলিক চিকিৎসাসেবা কেড়ে নিয়ে রাজনীতি তার বিষাক্ত বিজয় নিশান ওড়ালো।
আমাদের এই জনপদে রাজনীতির চরিত্র বদলায়, কিন্তু লুটপাটের ক্ষুধা একই থাকে। যে দলই ক্ষমতার সুবাস পেতে শুরু করে, তারা হাসপাতালের সিসিইউ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের পকেট—সবকিছুর ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে। রাড্ডা হাসপাতালের এই ধ্বংসস্তূপ আসলে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির আয়না, যেখানে সেবা আর মানবতা বলি হয় ক্ষমতার লোভের কাছে।
ভ্যাকসিন আর যন্ত্রপাতি হয়তো টাকার বিনিময়ে আবার কেনা যাবে, কিন্তু যে রাষ্ট্র নিজের শিশুদের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ রক্ষা করতে পারে না, সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও নৈতিক ভিত্তি চিরতরে ভেঙে পড়ে।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

রম্য

26/09/2026

ভাগাড়ের নতুন পাহারাদার ও পুরানো বন্দোবস্ত
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
——————————————————————-
ক্ষমতার রদবদল হলে আমাদের দেশের মানুষ প্রায়ই ভেবে বসে—এবার বুঝি ইতিহাসের রূপকথা বাস্তব রূপ নিল। অথচ রাজনীতির ব্যাকরণে রূপকথা বলে কিছু নেই; সেখানে যা ঘটে, তা হলো শুধুই পাহারাদারের অদলবদল। ক্ষমতার চেয়ারে যে-ই বসুক না কেন, রাষ্ট্র চালনার মূল চালিকাশক্তি সেই একই আমলাতন্ত্র আর একই রাজনৈতিক স্বার্থচর্চা। গণ-অভ্যুত্থান বা বড় ধরনের পরিবর্তনের পর ক্ষণিকের জন্য নতুন ব্যবস্থার স্বপ্ন তৈরি হলেও, ভোটের হাওয়া গায়ে লাগতেই দেশ আবার তার পুরোনো কক্ষপথে ফিরতে বাধ্য হয়।
একটি নতুন সরকার কিংবা রাজনৈতিক শক্তি এসে পুরোনো অপরাধের বিচার করবে—এমন আশা করা আর কসাইয়ের কাছে গবাদিপশুর অধিকার রক্ষা আশা করা একই কথা। রাজনীতিবিদ ও উচ্চপদস্থ আমলাদের আচরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশপ্রেম তাদের কাছে এক ধরণের ঋতুভিত্তিক অলংকার। সুযোগ পেলে তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের করের টাকা লুটপাট করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেন। বিদেশে বেগমপাড়া গড়ে তোলা কিংবা পরিবারকে কোটি টাকার মালিক বানানোর এই যে উদগ্র বাসনা—তা থেকে স্পষ্ট যে, জনগণকে তারা স্বাধীন নাগরিক ভাবেন না, ভাবেন নিজ এস্টেটের প্রজা বা গোলাম।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) গতিপথ লক্ষ করলেই এই রাজনৈতিক সমীকরণের সত্যতা বোঝা যায়। অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার বিদায়ের পর থেকেই আইসিটির বিচারে হঠাৎ ধীরগতি চলে এসেছে। যেসব অপরাধী বিদেশে পালিয়ে আছে, তাদের অনুপস্থিতিতে চটজলদি ফাঁসির রায় দেওয়া হলেও, যারা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে বা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে, তাদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী নেতারা এখন প্রকাশ্যে বা গোপনে তাদের বাঁচানোর জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। রাজনীতিতে শত্রুতার চেয়ে পারস্পরিক অপরাধ গোপন রাখার সুবিধা যে কত বেশি, এই তৎপরতা তারই প্রমাণ।
ইতিহাস আমাদের শেখায়, একটি ভাঙা রাষ্ট্র সংস্কার করার জন্য যে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন, তা নির্বাচনমুখী কাঠামোর ভেতর থাকে না। আমরা যখনই ভাবি একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসে সব সমস্যা দূর করে দেবে, ঠিক তখনই নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে। পুরোনো ব্যবস্থা টিকে থাকে কারণ, যারা ক্ষমতায় আসে তারা শাসনব্যবস্থা বদলাতে চায় না; তারা শুধু সেই শাসনব্যবস্থার সুবিধাভোগী হতে চায়।
ক্ষমতার রঙ বদলায়, কিন্তু শোষণের রূপ বদলায় না। যতক্ষণ না নাগরিকরা নিজেদের ভাগ্যের দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেওয়া বন্ধ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পরিবর্তন কেবল একদল নতুন মালিক তৈরির চক্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

রম্য

24/09/2026

বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং গণআদালতের ঝুঁকি
=========================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
—————————----------------————————————-
ময়মনসিংহে সম্প্রতি এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নবম শ্রেণিতে পড়া এক কিশোরকে বেঁধে রেখে তার মাকে ধর্ষণ করেছে তিন বখাটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ওই তিনজনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

এই ঘটনাটি আমাদের আইনি ও সামাজিক ব্যবস্থার এক গভীর ও অস্বস্তিকর সত্যকে সামনে নিয়ে আসে। যখন কোনো অপরাধের পর মানুষ নিজেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তখন তা কেবল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ থাকে না; তা দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা হারানোর একটি বড় সংকেত হয়ে ওঠে। মানুষ যখন দেখে যে অপরাধের পর দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা প্রশাসনিক শিথিলতার কারণে সঠিক বিচার পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখনই গণআদালত বা নিজেদের মতো করে বিচার করার এই প্রবণতা তৈরি হয়।

তিনটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার মাধ্যমে ক্ষুব্ধ সমাজ হয়তো তাদের তাৎক্ষণিক ক্ষোভ মিটিয়েছে, কিন্তু এটি কোনো টেকসই সমাধান নয়। আগুন দেওয়া বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যেমন অন্যায়, তেমনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি হওয়াও বিপজ্জনক যেখানে মানুষ বিশ্বাস করে যে সরকারি আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যয়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব ছিল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। বিচার প্রক্রিয়া যদি সচল, দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য হতো, তবে সাধারণ মানুষকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো না। ময়মনসিংহের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সমাজে অপরাধীদের ভয় যতখানি থাকা উচিত, তার চেয়ে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অবিশ্বাস অনেক বেশি তৈরি হয়েছে। একটি সুস্থ সমাজে বিচার আদালতে হওয়া উচিত, রাজপথে বা আগুনে পুড়িয়ে নয়।

নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

রম্য

23/09/2026

আমলকীর আঁটি ও একজন সাবেক ক্যাডার
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
———————————————————————
আমাদের দেশে রাজনীতির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—এখানে মতাদর্শের মেয়াদকাল আমলকীর আঁটির চেয়েও দ্রুত শেষ হয়, কিন্তু অপরাধবোধের আয়ুষ্কাল অনেক সময় রাতারাতি বেড়ে যায়।
ভোটের আগে জাকিরুল পাড়ার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে বিনয়ের এমন এক অবতার সেজেছিল, যা দেখলে স্বয়ং ঋষি-মুনিরাও লজ্জা পেতেন। তখন ধানের শীষের জন্য ভোট চাওয়াটা তার কাছে ছিল দেশ উদ্ধারের একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব। সমস্যা হলো, নির্বাচনে জয়ের পর যখন দল ক্ষমতায় বসল, তখন তার চারপাশের ভাইয়েরা দেশ উদ্ধারের বদলে চাঁদাবাজি আর দখলদারিত্বের নতুন এক 'মহাকাব্য' রচনা করতে শুরু করল। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের ঝালমুড়িওয়ালা—সবাই যখন ক্ষমতার নতুন স্বাদ টের পেতে লাগল, তখন জাকিরুল আবিষ্কার করল, সে আসলে পরিবর্তনের অনুঘটক ছিল না, ছিল এক বিরাট অন্যায়ের অবৈতনিক সেলস্যান।
ক্ষমতা যখন পচে গন্ধ ছড়াতে শুরু করে, তখন তার সবচেয়ে বড় আঘাতটা গিয়ে লাগে নিচের তলার অনুতপ্ত কর্মীদের নাকে। জাকিরুলের মতো সাধারণ কর্মীরা তখন বোঝে, তারা রাজপথে রক্ত দিয়ে আসলে কয়েকজন নতুন মালিক তৈরি করেছে মাত্র। নিজের তৈরি সেই মালিকদের কীর্তিকলাপ দেখে এবং পাড়া-প্রতিবেশীর গালি শুনে অতিষ্ঠ জাকিরুল শেষমেশ ফেসবুকে শরণ নিল। অতি মানবিক এক আকুতি জানিয়ে সে লিখল, “যাদের কাছে ভোট চাইছি, তাদের কাছে মাপ চাই... একটা ভোটই তো চাইছিলাম, জায়গা-জমি তো চাইনি।” যে আঙুল দিয়ে সে ভোটের দিন সিল মেরেছিল, সেই আঙুল দিয়েই কান্নার ইমোজি চেপে সে রাষ্ট্র ও দলের কাছে নিজের নিঃশর্ত দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করল।
কিন্তু আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর মগজ এক অদ্ভুত উপাদানে তৈরি; সেখানে ভুল স্বীকার করাটা ক্ষমতার প্রতি চরম অ আনুগত্য হিসেবে গণ্য হয়। জাকিরুলের এই চাওয়া বা ক্ষমা প্রার্থনা দলের চোখে গণমানুষের প্রতি সহানুভূতি হিসেবে ধরা পড়েনি, ধরা পড়েছে 'সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ' হিসেবে। নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে এক টুকরো প্যাড নির্দ্বিধায় জারি হয়ে গেল, যেখানে লেখা হলো জামালপুর জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। নোটিশে সভাপতির নাম আছে, সাধারণ সম্পাদকের নাম আছে, এমনকি ফ্যাক্স নম্বরও আছে—শুধু যা নেই, তা হলো সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বোঝার মতো সামান্যতম অনুভূতির উপস্থিতি।
আমাদের দেশে রাজনীতিতে ঢোকার দরজাটা যতটা চওড়া, সত্য কথা বলে বের হওয়ার দরজাটা ততটাই সংকীর্ণ। ক্ষমতা যখন অন্ধ হয়ে যায়, তখন সে নিজের কর্মীদেরও শত্রু মনে করে, যদি তারা ভুল করে আয়না সামনে ধরে ফেলে। জাকিরুলের এই বহিষ্কারাদেশ আসলে কোনো শাস্তি নয়, বরং এটি একটি দলীয় স্বীকৃতি যে—তুমি অনুশোচনা করার মতো অপরাধ করে ফেলেছ!
ক্ষমতার এই অদ্ভুত সার্কাসে জাকিরুল হয়তো পদ হারাল, কিন্তু হয়তো বা বেঁচে গেল। শেষপর্যন্ত রাজনীতি মানুষকে দুটি জিনিস দেয়: ক্ষমতার অহংকার, অথবা ভুলের মাসুল। পদ খোয়ানোর পর অন্তত জাকিরুল নিশ্চিত হতে পারল—পরের নির্বাচনে কাউকে আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দায় অন্তত তার কাঁধে থাকবে না।

নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

রম্য

21/09/2026

তেলের দাম ও হিসাবের আন্তর্জাতিক গণিত
-------------------------------------------------------------------
ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
==========================================
চা-দোকানের বেঞ্চে বসে যে লোকটি প্রতিদিন সকালে সরকারের বাজেট বিশ্লেষণ করেন, তার আসল ক্ষমতা অর্থমন্ত্রীর চেয়ে কম নয়। পার্থক্য কেবল একটাই—অর্থমন্ত্রী বাজেট বানান জাতীয় সংসদে বসে, আর তিনি বানান একটি অর্ধভাঙ্গা প্লাস্টিকের কাপ হাতে নিয়ে। সেই দোকানেই কাল সকালে আলোচনা শুরু হলো এক আশ্চর্য ঘোষণা নিয়ে: “যারা নির্দিষ্ট দল বিএনপি করেন, তাদের জন্য নাকি প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা কমানো হয়েছে!” ঘোষণাটি শোনার পর থেকে পাড়ার অভিজ্ঞ মোটর বাইকাররা হিসাব মেলাতে গিয়ে পেট্রোল পাম্পের ডিজিটাল মিটার নয়, নিজেদের পকেটের মানিব্যাগের গভীরতা মাপতে শুরু করেছেন।

ক্ষমতার রাজনীতিতে সুবিধার চেয়ে বড় কোনো রঙ নেই। কাল পর্যন্ত যে লোকটির পকেটে কোনো দলীয় পরিচয়পত্র ছিল না, আজ হঠাৎ করেই সে পেট্রোল পাম্পের লাইনে দাঁড়ানোর আগে বুক পকেটের ভেতরে একটি বিশেষ রসিদ বা সদস্যপদ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তেলের মতো তরল জিনিস যখন রাজনৈতিক আইডি কার্ড দিয়ে পরিমাপ করা শুরু হয়, তখন রাষ্ট্রের অর্থনীতি আর বাজারদর দিয়ে চলে না; তা চলে নেতার কৃপাদৃষ্টির স্কেলে। তবে এই আশ্চর্য হ্রাস-বৃদ্ধির নাটকে আসল গোলমালটা বাঁধল তখন, যখন জানা গেল—সরকারের সমালোচনা করা একেবারে নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, দাম কমেছে শুনে যদি আপনি হাসেন, তবে সেটাও হতে পারে এক ধরনের সন্দেহজনক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।

ঠিক এই জটিল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক মুহূর্তেই মঞ্চে আগমন ঘটল নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর। তেলের দাম আদতে বাড়ল না কমল—এই বিতর্ক যখন চারপাশের বাতাস ভারী করে তুলছে, তখন সরাসরি 'দাম বেড়েছে' বলা মানে নিয়ম ভাঙা। কিন্তু অসন্তোষ চেপে রাখাও সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে তিনি এক অভিনব পথ ধরলেন। পাটোয়ারী সাহেব জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে প্রফুল্ল চিত্তে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন, “সরকার তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ায়নি, বরং ২০ টাকা কমিয়েছে!” আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি চমৎকার চাটুকারিতা বলে মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক তীক্ষ্ণ পরিহাস। এটি সেই বুদ্ধিমান নাগরিকের ভাষা, যিনি জানেন কীভাবে রাজাকে বোঝাতে হয় যে তিনি খালি গায়ে আছেন, অথচ মুখে বলতে হয় ‘রাজার পোশাকটি চমৎকার!’

ক্ষমতার সংস্কৃতি চিরকালই নাগরিককে দুটি পথ দেখায়—হয় তুমি ব্যবস্থার প্রশংসা করো, না হয় চুপ থাকো। যখন প্রকাশ্যে সত্য বলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, তখন রূপক আর ব্যঙ্গই হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়। নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর এই 'উল্টো প্রতিবাদ' আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বৈরাচারী বা কঠোর আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সত্য সরাসরি হাঁটে না; সত্যকে হেঁটে আসতে হয় বাঁকা পথে, ছদ্মবেশে। দাম কমানোর আনন্দে চিৎকার করার ছলে যখন দাম বাড়ার যন্ত্রণা প্রকাশ করা হয়, তখন বোঝা যায় সমাজ ব্যবস্থার ভেতরের যন্ত্রটি কতটা বিকল হয়ে পড়েছে।

সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বও বড় অদ্ভুত। প্রথমটায় তারা থমকে দাঁড়ায়, তারপর ধীরে ধীরে হিসাব মেলাতে থাকে। পাম্পের কর্মচারী যখন বোতলভর্তি তেল ঢেলে দিয়ে বলল, “ভাই, সরকারের বিশেষ ছাড়ের কারণে আপনার পকেট থেকে টাকা একটু বেশিই গেল,” তখন চালকের মুখের হাসি আর অসন্তোষের রেখা একাকার হয়ে গেল। এই ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান করে না, বরং ক্ষমতার দম্ভকে আরও উলঙ্গ করে তুলে ধরে। চাটুকাররা হয়তো ভেবেছিল এটি একটি দূরদর্শী সামাজিক ব্যবস্থাপনা, কিন্তু দিনশেষে তা পরিণত হলো সাধারণ মানুষের হাসির খোরাকে।

রাষ্ট্র যখন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে তেল বা সুবিধা বিতরণ করতে চায়, তখন আসলে সে তেলের দাম কমায় না, বরং নিজের কাঠামোর ভেতরের মেধা ও ন্যায়ের দাম কমিয়ে দেয়। পেট্রোল পাম্পের জ্বলজ্বলে আলোয় তেলের লিটার মাপার মিটারের চেয়ে মানুষ এখন বেশি মেপে দেখছে ক্ষমতার অসাড়তা। দিনশেষে, পেট্রোলে গাড়ি চলে সত্য, তবে রাষ্ট্র চলে ন্যায়বিচারে। আর যখন তেলের লিটারে ন্যায়ের হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়, তখন সাধারণ নাগরিক কেবল নীরব হাসি হেসে বুঝিয়ে দেয়—খেলার শেষ দৃশ্যটি এখনও বাকি।

19/09/2026

ক্ষমতার চামড়া ও ইনজেকশনের সিরিঞ্জ
================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
——————————————————————-
আমাদের দেশে জুতোর সাইজ বদলায়, দোকানের সাইনবোর্ড বদলায়, কিন্তু জুতোপেটার কায়দাটা একই থেকে যায়। একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে একজন মানুষকে মাঝরাতে তুলে বগুড়া নিয়ে যাওয়া হলো, আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলেন, আর সেই রিমান্ডের থার্ড-ডিগ্রির পারফরম্যান্স শেষে নাগরিক মুক্তি পেলেন অর্ধেক অবশ শরীর আর স্ট্রোকের খবর নিয়ে। কথা ছিল গণঅভ্যুত্থানের পর হাওয়ায় স্বাধীনতার গন্ধ পাওয়া যাবে, অথচ দেখা যাচ্ছে সেই একই পুরনো অজ্ঞাত সিরিঞ্জের গন্ধ বাতাসে ভাসছে। রাষ্ট্রযন্ত্র যেন এক অদ্ভুত পুরোনো মোটরবাইক—যে চালকই এর সিটে বসুক না কেন, প্যাডেল মারলে ধোঁয়া সেই একই নির্দয় কালিরই বের হয়।
ডিজিটাল দুনিয়ায় ক্ষমতা বরাবরই একটু স্পর্শকাতর। রাজা মশাইয়ের পোশাক সুন্দর—এ কথা না বলে যদি কেউ লিখে ফেলে যে পোশাকে একটু ময়লা লেগেছে, অমুক বগুড়া বা ঢাকার দরবারে তৎক্ষণাৎ মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। একজন নাগরিক পোস্ট লিখলেন, অপরাধ নাকি অপরাধ নয়—সেটা বিচার করবে আইন। কিন্তু আইনের দাঁড়িপাল্লা ওঠার আগেই যদি রিমান্ডের বদ্ধ ঘরে mysterious 'চিকিৎসা' শুরু হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে অপরাধ সংশোধন নয়, উদ্দেশ্য আসলে ভয়কে রি-চার্জ করা। যেমন করে ঘড়িতে ব্যাটারি বদলালে কাঁটা দ্রুত ঘোরে, ক্ষমতার চেয়ার বদলালে ভয়ের মিটারটিও ঠিক সেভাবে নতুন করে চালু হয়।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতার রক্ত আর জীবন বাজি রাখার পেছনে আসল স্বপ্নটা ছিল কাঠামোর বদল। মানুষ ভেবেছিল, অন্তত থানাহাজত আর রিমান্ডের অন্ধকার কুঠুরিগুলো রক্তচোষা বাদুড়দের বাসস্থান থেকে মুক্ত হবে। কিন্তু আজ যখন সেই একই পুলিশি তৎপরতা আর রিমান্ড-ফেরত অবশ দেহের ছবি দেখতে হয়, তখন প্রশ্নটা ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকে না—প্রশ্ন ওঠে ক্ষমতার সেই পুরনো ব্যবস্থার দিকে। বিপ্লব তো চাটুকার আর নিপীড়কদের নাম বদলাতে হয়নি; হয়েছিল নিপীড়নের নিয়মটাই উপড়ে ফেলতে।
আমলাতন্ত্র আর রাজপুরুষদের চরিত্র বেশ মজার। তারা বাতাস বুঝে পাল তোলে। যখন যে সরকার আসে, তাদের ডিজিটাল দরবারে বসে ভয়ের সংস্কৃতি চালু রাখাই যেন এই যন্ত্রের প্রধান কাজ। একটি ফেসবুক লাইনের মূল্য যদি দাঁড়ায় পঙ্গুত্ব কিংবা স্ট্রোক, তবে সেই সমাজকে কোনোভাবেই 'মুক্ত' বলা চলে না। অপরাধ হলে খোলা আদালতে বিচার হোক, শাস্তি হোক। কিন্তু রাষ্ট্রের হেফাজতে নিয়ে গিয়ে আড়ালে শরীরে অজ্ঞাত ওষুধ পুশ করার সংস্কৃতি আসলে একটা বার্তার মতোই কাজ করে—'মুখ বন্ধ রাখো, নইলে হাত-পা অকেজো করে দেব।'
ইতিহাস আমাদের এই একটা জিনিসই বারবার শেখায়: ক্ষমতার গাদিতে যারা বসে, তারা ভুলে যায় যে আগের শাসকেরাও ওই একই লাঠি আর একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করে নিজেদের অমর ভেবেছিল। কিন্তু ভয় দেখিয়ে সাময়িক নীরবতা কেনা যায়, নাগরিকের আস্থা কেনা যায় না। যে সিংহাসন তৈরি হয় ভয়ে আর শাসানিতে, তার পায়াগুলো কখনোই শক্ত থাকে না; কেবল পরবর্তী এক ঝড় আসা পর্যন্ত তা টিকে থাকে।

নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

রম্য

19/09/2026

কথা বলা বা লেখার অপরাধে মানুষকে থানায় ধরে নেওয়া, রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা আর গায়ে গায়ে অদৃশ্য গায়েবি চিকিৎসার ইনজেকশন ফুটিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি এই দেশে কোনো নতুন আবিষ্কার নয়। ক্ষমতার মসনদে চেহারার রদবদল ঘটে, কিন্তু ব্যবস্থার ভেতরে লুকিয়ে থাকা চাবুক আর ইনজেকশনের সিরিঞ্জগুলো টেবিলের তলায় ঠিক আগের মতোই সাজানো থাকে।
সবচেয়ে চমত্কার বিষয় হলো রাষ্ট্র ও তার রক্ষকদের এই দীর্ঘস্থায়ী 'রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা'। কোনো এক নাগরিক ফেসবুকে একটা পোস্ট দিলেন। শাসকদলের প্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর ছবি কিংবা নাম ব্যবহার করে দুটি লাইন লিখলেন। ব্যাস, সঙ্গে সঙ্গে সুশীল সমাজের ঘুম ভেঙে গেল, অমুক দলের অমুক নেতা আদালতে গিয়ে একটা মামলা ঠুকে দিলেন। পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে রাতারাতি ঢাকা থেকে আসামী তুলে বগুড়া বা দেশের অন্য কোনো প্রান্তে নিয়ে গেল। আদালতও পরম মমতায় রিমান্ড মঞ্জুর করলেন। রাষ্ট্রযন্ত্র যখন একটা ফেসবুক পোস্টের জবাবে এত দ্রুত আর নিখুঁতভাবে কাজ করে, তখন বোঝা যায় আমাদের আমলাতন্ত্র কতটা কর্মক্ষম!
এরপর শুরু হয় সেই চিরাচরিত রহস্যময় অধ্যায়—'রিমান্ডের সেবা'। সেখানে আইনের আলো পৌঁছে না, পৌঁছায় কেবল অন্ধকারের প্রহার আর বিষাক্ত সিরিঞ্জ। বগুড়ার রিমান্ড শেষে যখন এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীর কারাগার থেকে বের হলেন, দেখা গেল তাঁর শরীরের নিচের অংশ সম্পূর্ণ অবশ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা গেল তিনি স্ট্রোক করেছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রিমান্ডে তাঁকে অজ্ঞাত কোনো ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতার বিরুদ্ধে টু-শব্দ করার মাশুল হিসেবে হাত-পা অকেজো হয়ে যাওয়া যেন এখন নাগরিক সেবারই একটা নতুন সংযোজন।
মজার ব্যাপার হলো, পোস্টের কারণে যদি কোনো অপরাধ হয়েই থাকে, তবে দেশের প্রচলিত আইনেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। অপরাধ প্রমাণিত হলে আদালত জেল-জরিমানা যা ইচ্ছে দেবেন। কিন্তু আদালতের বিচারাধীন প্রক্রিয়ার আগেই যদি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নিয়ে অজ্ঞাত ইনজেকশন মেরে একজন মানুষকে হাসপাতালে পাঠাতে হয়, তবে বুঝতে হবে এটি কেবল একটি সাজা নয়, এটি একটি বার্তা। এমন এক ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতের কোনো নাগরিক ফেসবুকে লেখার আগে নিজের অবশ হয়ে যাওয়া হাত-পায়ের কথা কল্পনা করে শিউরে ওঠে।
অন্যায় ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে বড় বড় ভাষণ দিয়ে যারা ক্ষমতায় বসেন, গাদিতে বসার পর তাদের রূপান্তরের এই দৃশ্যটা বেশ বৈপ্লবিক। তাদের শাসনের অধীনেও যদি একটি সামান্য ডিজিটাল লাইনের জবাব আসে অবশ শরীর আর স্ট্রোকের আকারে, তবে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের স্পষ্ট প্রশ্ন করার সময় এসেছে—পরিবর্তনটা ঠিক কোথায় হলো?
রাষ্ট্র কি তার নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করছে, নাকি নাগরিকদের মনে আজীবনের পঙ্গুত্বের ভয় ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে শেখাচ্ছে? রিমান্ডের ওই বদ্ধ ঘরে আসলে কী ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল? কোন চিকিৎসক বা কার নির্দেশে এই 'চিকিৎসা' চলল? এই সব প্রশ্নের সোজা হিসাব সামনে আসা দরকার।
ক্ষমতার অন্ধ গলিতে ঘুরে বেড়ানো এই ইনজেকশনের সিরিঞ্জগুলো সব শাসকের হাত বদল হলেও রূপ বদলায় না। কিন্তু রাষ্ট্র যদি এভাবে নিজের নাগরিকদেরই শয্যাশায়ী বানিয়ে ভয় দেখায়, তবে একদিন পুরো সমাজটাই একটা পঙ্গু প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। সুস্থতা আর নিরাপত্তার অধিকার কোনো দলের করুণা নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আশা করি, চিকিৎসাধীন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

18/09/2026

ক্ষমতার টেবিল, ড্রাইভারের স্টিয়ারিং ও শতকোটির রসায়ন
--------------------------------------------------------------------------
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
===========================================
আমাদের দেশে ক্ষমতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, এর কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই। এটি কেবল সচিবালয় বা গণভবনে বসে থাকে না; মাঝে মাঝে তা লটকন বেচতে বেচতে আইজিপির গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে কিংবা ওসির খাসকামরায় গিয়েও আশ্রয় নেয়। সম্প্রতি এক পুলিশ কর্মকর্তার ঘরোয়া আড্ডার ফাঁস হয়ে যাওয়া অডিও আমাদের সেই সুপ্রাচীন রাজনৈতিক সত্যকেই আবার মনে করিয়ে দিল। দেশে সরকার বদলায়, পতাকার রঙ কিংবা টেবিলের নামফলক বদলায়, কিন্তু খাতা খুললে দেখা যায় মূল কারবারটি আগের জায়গায়—সেই ‘খাবা-দাবা আর রাস্তা পাহারা’র পুরনো সমীকরণেই থমকে আছে।

আমলাতন্ত্র ও ক্ষমতার অন্দরে যে ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ দ্বন্দ্ব, তা কোনো আদর্শিক লড়াই নয়, বরং ডাল-ভাতের ভাগবাটোয়ারার লড়াই। সিনিয়র স্যাররা নতুন হাওয়ায় হুট করে দল বদলে বিএনপি বা অন্য কিছুর রূপ নিচ্ছেন, আর নিচের তলার পাহারাদাররা আক্ষেপ করছেন—‘তোমরা খাবা-দাবা নিয়া থাকবা, আর আমরা রাস্তা পাহারা দিমু!’ এই এক বাক্যেই পুরো ক্ষমতার কাঠামোর কঙ্কাল বেরিয়ে পড়ে। পদসেবা আর রাজনৈতিক চামচামি এখানে কোনো নীতিগত বিশ্বাস থেকে আসে না; আসে মূলত চামড়ার তৈরি মানিব্যাগটিকে সুরক্ষিত রাখার তাগিদ থেকে। পাহারাদারের ক্ষোভ দেশের জন্য নয়, ক্ষোভটি মূলত খাবার টেবিলে বসতে না পাওয়ার।

সবচেয়ে চমৎকার বিষয় হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। একসময় আমরা শুনেছি প্রধানমন্ত্রীর পিয়ন চারশত কোটি টাকার মালিক হয়ে হেলিকপ্টারে ঘুরে বেড়াতেন। এখন জানা গেল, আইজিপির ড্রাইভার সাহেব নাকি ওসি বদলি ও পোস্টিংয়ের তদারকি করেন। একেই বলে সত্যিকারের জনকল্যাণমূলক গণতন্ত্র, যেখানে পদমর্যাদা বড় কথা নয়, চাবির গোছা কার হাতে সেটাই আসল। স্টিয়ারিং যার হাতে, দেশের আমলাতন্ত্রের গতিপথও যেন সে-ই ঠিক করছে। ড্রাইভারের এই ক্ষমতা প্রদর্শন মূলত আমাদের ভঙ্গুর কাঠামোর প্রতি এক চূড়ান্ত ঠাট্টা।

তারপর আসে পদ ধরে রাখার বা না-রাখার পরম তৃপ্তি। ‘যে পদে আছি ভালোই আছি, বছর গেলেই ১০০ কোটি’—এই মন্তব্যটি কোনো রূপকথা নয়, আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক নগ্ন স্বীকারোক্তি। সাধারণ মানুষ যখন চাল-ডালের দাম মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন সরকারি চেয়ারে বসে শতকোটি টাকার এই হিসাব যেন এক ভিন্ন গ্রহের বাস্তবতার কথা বলে। জনগণের রক্ত চুষে নেওয়া এই বিপুল অর্থ কোনো মিরাকল নয়, এটি এক সুসংগঠিত ব্যবস্থার ফসল, যা বছরের পর বছর ধরে সমান তালে নিখুঁতভাবে চলে আসছে।

ভাটারা থানার এক স্যারের কাজ করে এক কোটি টাকা পাওয়ার ঘটনাটি কিংবা ঘুষের বিনিময়ে ওসির বহিষ্কারের পর্বটি আমাদের বিচার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। একটা বড় রদবদল হলে আমরা ভাবি সব বদলে যাবে, সমাজ রাতারাতি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে। কিন্তু পাঁচই আগস্ট আসুক আর যায়-ই আসুক, ভেতরের চরিত্রগুলো ও লেনদেনের পথগুলো একই থেকে যায়। শুধু হাত বদলায়, কিন্তু ঘুষের অংক বা মানসিকতা বদলায় না।

৫৫ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমূল পরিবর্তনের আশাটাই আমাদের প্রধান ভুল। ক্ষমতার সংস্কৃতিটা এমন এক বটবৃক্ষ, যার শেকড় সমাজ ও মানুষের স্বভাবের অনেক গভীরে। সংস্কারের আওয়াজ রাজপথে যত জোরালোই হোক না কেন, ভেতরের গলিতে ‘এক কোটি টাকার কাজ’ এবং ‘ড্রাইভারের পোস্টিং বাণিজ্য’ ঠিকই পথ চিনে নেয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যবস্থার পেছনের চরিত্র ও লোভ একই থাকবে, ততক্ষণ সরকার বদল কেবল নতুন বোতলে পুরনো মদের মতো পরিবেশন ছাড়া আর কিছুই নয়।

নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
রম্য

27/07/2025

🌿 নীরব আর্তনাদ: ২৩ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু না বলা সত্য
=================================
আমি গত ২৩ বছর ধরে নানা বয়স, শ্রেণি ও পটভূমির মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি—সেবা দিয়েছি, সহানুভূতি দেখিয়েছি, পাশে দাঁড়িয়েছি। এই দীর্ঘ যাত্রায় আমি দেখতে পেয়েছি এমন অসংখ্য মানুষ, যারা সমাজের চোখে “নাজুক” — অথচ মানুষ হিসেবেই তাদের মূল্যায়ন করা হয় না।

এই মানুষগুলো বিভিন্ন জায়গায়, সময়ে ও পরিবেশে নানা ধরনের পীড়নের শিকার হন।
আর সবচেয়ে দুঃখজনক হলেও নির্মম সত্য হলো—এই পীড়নের পেছনে বহুক্ষেত্রেই দায়ী থাকে নিজস্ব পরিবার, যার কাছে তাদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল।

তাই আমি এখন লিখতে চাই, বলতে চাই, এই অব্যক্ত পীড়নের গল্প—যা হয়তো কেউ বলতে চায় না, আর কেউ শুনতেও চায় না।

❗ “পীড়ন” বলতে আমরা কী বুঝি?

পীড়ন মানেই কেবল গায়ে হাত তোলা নয়।
এটি হতে পারে ঠাণ্ডা অবহেলা, অপমানজনক কথা, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ কিংবা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া—সবই পীড়ন, যদি তা কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে, মর্যাদাকে পদদলিত করে বা তাকে দুর্বল ও নিয়ন্ত্রণাধীন করে তোলে।

পীড়ন মানে কারও স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর হস্তক্ষেপ—ইচ্ছাকৃত, ধারাবাহিক এবং ধ্বংসাত্মক।

💬 কেন “Abuse” এর বাংলায় “পীড়ন” শব্দটি ব্যবহার করছি?

ভাষার সৌন্দর্য ও কার্যকারিতার দিক থেকে “পীড়ন” শব্দটি অনেক বেশি উপযুক্ত। এটি শ্রুতিমধুর, সহজে উচ্চারিত ও দৈনন্দিন ব্যবহারে বেশি প্রচলিত। আমরা যেমন বলি “আর্থিক পীড়ন”, “মানসিক পীড়ন” বা “শারীরিক পীড়ন”—তেমনই এ শব্দগুলোতে অর্থের গভীরতা ও স্পষ্টতাও থাকে।
অন্যদিকে, “নিগ্রহ” শব্দটি কিছুটা পুরাতন সাহিত্যধর্মী ও জটিলতা বোধক, যা অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আলোচনায় ভারী ও দূরত্ব তৈরি করে।
বিশেষ করে প্রবীণ পীড়ন বা পারিবারিক পীড়নের মতো প্রসঙ্গে “পীড়ন” শব্দের ব্যবহারই আজকের সমাজে বোধগম্য, প্রাসঙ্গিক ও মানবিক।

🔍 পীড়নের ধরন কত রকম?

আমরা অনেকেই ভাবি পীড়ন মানেই গায়ে হাত তোলা, চিৎকার করা বা যৌন হয়রানি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, পীড়নের অনেক রূপ আছে—যার অনেকগুলো আমাদের চোখের সামনেই ঘটে, কিন্তু আমরা তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

একজন প্রবীণ বাবা নিজের পেনশনের টাকা ছেলে নিয়ন্ত্রণ করলেও কিছু বলতে পারেন না।
একজন মা বারবার অনুরোধ করেন ওষুধ এনে দেওয়ার জন্য, কিন্তু বাড়ির কেউই তা গুরুত্ব দেয় না।
একজন বৃদ্ধা ঠাণ্ডা ভাত খেয়ে চুপচাপ বসে থাকেন—কারণ নাতির গেম চলতেছে বলে কেউ গরম করে দিতে চায় না।

এগুলো কি পীড়ন নয়?

🔦 কিছু পীড়নের ধরন, যেগুলো আমরা অনেক সময় বুঝিই না:
১। আর্থিক পীড়ন – প্রবীণদের আয় বা সম্পত্তি দখল করে রাখা, অথচ নিজের মতো ব্যবহার করা

২। মানসিক পীড়ন – কথা বললে “বয়স হয়েছে, চুপ থাকো” বলা

৩। সামাজিক পীড়ন – আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা

৪। চিকিৎসাগত পীড়ন – প্রয়োজনীয় ওষুধ বা চিকিৎসা না দেওয়া

৫। ভাষাগত পীড়ন – বারবার “তুমি কিছুই বোঝো না” বলা

৬। সাংস্কৃতিক পীড়ন – নিজস্ব পোশাক, ভাষা বা বিশ্বাস নিয়ে উপহাস করা

৭। তথ্য বা সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত পীড়ন – পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্রবীণদের মত নেওয়া হয় না

৮। ভবিষ্যৎ অস্বীকৃতি – “এই বয়সে আর কিছু হবে না, খামোখা চিকিৎসা কেন?”

৯। ভবিষ্যৎকে জোর করে তৈরি করা পীড়ন – “তুমি এখন থেকে এই ঘরে থাকবে, কোথাও যেতে পারবে না”

এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। কারণ পীড়নের রূপ যতই বদলায়, তার মূল ঠিক একই রয়ে যায়—একজন মানুষকে তার স্বাধীনতা ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করা।

✊ আমরা কী করতে পারি?
• প্রথম কাজ, চোখ খুলে দেখতে শেখা—নীরব পীড়নের সংকেতগুলো বুঝতে হবে।
• তারপর, ভাষায় এবং আচরণে মানবিক হওয়া—প্রতিদিনের কথায় যেন অপমান না থাকে।
• পরিবারে প্রবীণদের জন্য সময় রাখা, তাদের সম্মান দেওয়া, নিজের আচরণে পরিবর্তন আনা।
• রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে প্রবীণদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

🌱 শেষ কথা:

আমার এই লেখা, এই কথা বলা, এই প্রতিরোধ গড়ার প্রয়াস—এটি শুধু এক ব্যক্তির চিন্তা নয়।
এটি সেই অগণিত মুখের প্রতিনিধি, যারা প্রতিদিন পীড়নের শিকার হলেও চুপ থাকে।
যারা ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যায়, মিশে যায় দেয়ালের সঙ্গে—কিন্তু বুকের ভিতর চিৎকার করে ওঠে।

আমি তাদের হয়ে লিখব, আমি তাদের হয়ে বলব।
কারণ পীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে শুধু অন্য কারও পাশে দাঁড়ানো নয়—বরং নিজেকেও আরও মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা।

🔔 আপনি যদি এই পথচলায় আমার সঙ্গী হন, তাহলে আমরা একসাথে অসংখ্য নীরব আর্তনাদকে আওয়াজ দিতে পারব।
চলুন, পীড়নের মুখোশ খুলে ফেলি।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Luton?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address

2
Luton
LU48FY