Aksh Islam
আল্লাহ সর্বশক্তিমান
কেনো দলের পক্ষে বলছিলাম না,,😢
ফরজ নামাজের শেষে সকাল
আলহামদুলিল্লাহ 🤲🤲
20/05/2026
“আমি বি"চার চাইনা কারণ আপনারা বি"চার করতে পারবেন না, আপনাদের বি"চার করার কোনো রেকর্ড নাই” 💔
18/05/2026
ইমাম বুখারীর জীবনে এমন একটি মুহূর্ত আছে — ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের সাথে — যা সিয়ারে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।
বাগদাদের সেই সন্ধ্যায় আকাশে মেঘ জমেছিল। তরুণ বুখারী তখন সবে বাগদাদে পৌঁছেছেন। বয়স বিশের কিছু বেশি। খোরাসান থেকে বের হয়েছেন হাদীসের সন্ধানে — ইরাক, শাম, হিজায ঘুরে এখন বাগদাদে। শহরে ঢুকেই শুনলেন একটি নাম বারবার উচ্চারিত হচ্ছে — আহমাদ ইবনে হাম্বল। মানুষ বলছে, এই শহরে এই মানুষটির মতো আর কেউ নেই।
বুখারী সিদ্ধান্ত নিলেন — যাবেন। কিন্তু সরাসরি যাওয়া ঠিক হবে না। আগে জানতে হবে এই মানুষ কেমন। তাই কয়েকদিন বাগদাদের মজলিসে বসলেন, শুনলেন, দেখলেন। যা শুনলেন তাতে মন আরো টানল।
একদিন সন্ধ্যায় গেলেন ইমাম আহমাদের দরজায়। দরজা খুলল। ভেতরে গেলেন। ইমাম আহমাদ তখন বসে আছেন — সামনে একটি পুরনো কিতাব, হাতে কলম। তাকালেন এই তরুণের দিকে। জিজ্ঞেস করলেন — “কোথা থেকে এসেছ?” বুখারী বললেন — “বুখারা থেকে।” ইমাম আহমাদ একটু থামলেন। তারপর বললেন — “বসো।”
সেই রাতে দুজনে কথা বললেন। ইমাম আহমাদ প্রশ্ন করছিলেন — হাদীসের, রাবীদের, সনদের। বুখারী উত্তর দিচ্ছিলেন। একটি উত্তর শেষ হচ্ছে, আরেকটি প্রশ্ন আসছে। রাত গভীর হচ্ছে, কিন্তু কেউ উঠছেন না। ইমাম আহমাদ যত শুনছিলেন — তত অবাক হচ্ছিলেন। এই তরুণ কেবল হাদীস জানে না — হাদীসের ভেতরে দেখতে পায়। প্রতিটি সনদের দুর্বলতা, প্রতিটি রাবীর অবস্থা — মুখস্থ এবং বিশ্লেষণসহ।
একসময় ইমাম আহমাদ একটি হাদীস বললেন — সনদসহ। তারপর জিজ্ঞেস করলেন — “এই সনদ সম্পর্কে তোমার কী মত?” বুখারী কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তারপর বললেন — “এই সনদে একজন রাবী আছেন যাঁর ব্যাপারে আমার কিছু বলার আছে।” ইমাম আহমাদ সোজা হয়ে বসলেন। বললেন — “বলো।” বুখারী বললেন — “এই রাবী একসময় নির্ভরযোগ্য ছিলেন। কিন্তু বার্ধক্যে তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এই হাদীসটি তিনি সেই দুর্বল সময়ে বর্ণনা করেছেন। তাই এটি সতর্কতার সাথে নিতে হবে।”
ইমাম আহমাদ চুপ হয়ে গেলেন। দীর্ঘ নীরবতা। তারপর বললেন — “তুমি এটা কীভাবে জানলে?” বুখারী বললেন — “আমি সেই রাবীর ছাত্রদের কাছ থেকে জেনেছি — কোন হাদীসগুলো তিনি আগে বর্ণনা করেছেন এবং কোনগুলো পরে। এই হাদীসটি পরের।” ইমাম আহমাদ আবার চুপ হয়ে গেলেন। এবার অনেকক্ষণ। তারপর ধীরে বললেন — “তুমি ঠিকই বলেছ। আমি এই বিষয়টা জানতাম — কিন্তু এভাবে গুছিয়ে ভাবিনি।”
সেই রাতে ইমাম আহমাদ আরেকটি কাজ করলেন যা বুখারী কখনো ভোলেননি। রাত অনেক হয়ে গেছে। বুখারী উঠতে যাচ্ছিলেন। ইমাম আহমাদ বললেন — “থাকো। আজ রাতে আমার ঘরেই থাকো।” বুখারী বললেন — “আমার জায়গা আছে।” ইমাম আহমাদ বললেন — “আমি জানি। কিন্তু আজ রাতে তুমি আমার মেহমান।”
পরদিন ভোরে ফজরের পর ইমাম আহমাদ বুখারীকে বললেন — “তোমার কাছে আমার একটি অনুরোধ আছে।” বুখারী বললেন — “বলুন।” ইমাম আহমাদ বললেন — “তুমি যা জানো — লিখে রাখো। সংকলন করো। তোমার মাথায় যা আছে তা কেবল তোমার মাথায় থাকলে চলবে না — কিতাবে আসতে হবে। কারণ মানুষ মরে যায়, কিন্তু কিতাব থাকে।”
বুখারী সেই কথা মনে রেখেছিলেন। ইমাম যাহাবী লিখেছেন — পরে বুখারী নিজে বলতেন, “ইমাম আহমাদের সেই ভোরের কথাটি আমার কানে সবসময় বাজে। তিনি না বললে হয়তো আমি লেখার কথা এতটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবতাম না।”
বাগদাদ ছেড়ে যাওয়ার দিন বুখারী ইমাম আহমাদের কাছে বিদায় নিতে গেলেন। ইমাম আহমাদ তাঁর হাত ধরলেন। বললেন — “খোরাসান ধন্য যে তোমাকে পাঠিয়েছে। আর আমরা গরিব যে তোমাকে রাখতে পারছি না।” বুখারীর চোখ ভিজে গেল। তিনি কিছু বললেন না। শুধু মাথা নত করলেন।
ইমাম আহমাদ পরে তাঁর ছাত্রদের বলতেন — “আমি খোরাসান থেকে আসা সেই তরুণের মতো আর কাউকে দেখিনি। মাথায় যা আছে তার পরিমাণ দেখলে ভয় লাগে — আর যেভাবে বিনয়ের সাথে বলে তা দেখলে ভালোবাসা লাগে। এই দুটো একসাথে বিরল।” ইমাম যাহাবী লিখেছেন — ইমাম আহমাদের এই কথাগুলো ছিল ইমাম বুখারীর জীবনের সবচেয়ে বড় সনদ — কোনো কিতাবের নয়, একজন মানুষের।
বুখারী চলে গেলেন। পেছনে রইল বাগদাদ, আর সেই ভোরের কথাটি — “মানুষ মরে যায়, কিন্তু কিতাব থাকে।” সেই কথাটি বুখারীর বাকি জীবন গড়ে দিয়েছিল। ষোল বছর পরে যখন সহীহ বুখারী পূর্ণ হলো — তখন হয়তো সেই ভোরের কথাটি আবার তাঁর কানে বেজে উঠেছিল।
সূত্র: সিয়ারু আলামিন নুবালা — ইমাম শামসুদ্দিন যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ
(খণ্ড ১২ — ইমাম বুখারী ও ইমাম আহমাদের জীবনী অধ্যায়)
Allah
Alhamdulillah
🤲🤲
Category
Website
Address
Pabna
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when Aksh Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.