Dr. Atiar Rahman
Dr Atiar Rahman
MBBS(CMU)
BCS(Health)
FCPS (Orthopedic surgery-FP)
কবজি ও বুড়ো আঙুলের তীব্র ব্যথা: De Quervain's Tenosynovitis
আমাদের ওপিডি (OPD) বা চেম্বারে কবজির ব্যথা নিয়ে আসা রোগীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো 'De Quervain's Tenosynovitis'।
এটি মূলত বুড়ো আঙুলের মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণকারী Abductor Pollicis Longus (APL) এবং Extensor Pollicis Brevis (EPB) টেনডনের প্রথম ডরসাল কম্পার্টমেন্টের একটি বেদনাদায়ক প্রদাহ।
১. হিস্টোরি (History/Patient Profile)
কাদের বেশি হয়: সাধারণত ৩০-৫০ বছর বয়সী নারী (বিশেষ করে নতুন মা, যারা বারবার সন্তানকে কোলে নেন)।
ঝুঁকির কারণ: অতিরিক্ত মোবাইল স্ক্রোলিং, টাইপিং, কাপড় নিংড়ানো, গলফ/টেনিস খেলা বা কবজির বারবার একই ধরণের মুভমেন্ট (Repetitive strain)।
২. লক্ষণ (Symptoms)
বুড়ো আঙুলের গোড়ায় এবং কবজির রেডিয়াল পাশে (Radial side) তীব্র ব্যথা এবং ফোলা ভাব।
কবজি মোচড়াতে গেলে বা কোনো কিছু শক্ত করে ধরতে (Grip) গেলে ব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠা।
আক্রান্ত টেনডনের ওপর চাপ দিলে তীব্র ব্যথা (Tenderness) অনুভূত হওয়া এবং মাঝে মাঝে 'লকিং' বা খটখট শব্দ হওয়া।
৩. পরীক্ষা (Examination & Diagnosis)
Finkelstein's Test: এটি এই রোগ শনাক্তকরণের প্রধান ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা। রোগীকে বুড়ো আঙুলটি হাতের মুঠোয় নিয়ে কবজিটি নিচের দিকে (Ulnar deviation) বাঁকাতে বলা হয়। যদি এতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, তবে টেস্টটি পজিটিভ।
Ultrasonography (USG): টেনডন শিথ-এর থিকনেস বা প্রদাহ নিশ্চিত হতে কবজির আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা যেতে পারে (এক্স-রে সাধারণত নরমাল আসে, তবে হাড্ডির অন্য সমস্যা বাদ দিতে করা হয়)।
৪. চিকিৎসা (Treatment Plan)
রোগের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পদ্ধতিকে ৩টি ধাপে ভাগ করা হয়:
কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট (প্রাথমিক ধাপ):
Immobilization: ৩-৪ সপ্তাহের জন্য Thumb Spica Splint ব্যবহার করে আঙুল ও কবজিকে বিশ্রামে রাখা।
Medication: প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে NSAIDs (যেমন- Naproxen, Aceclofenac) এবং গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ।
Activity Modification: যে কাজের কারণে ব্যথা বাড়ে তা সাময়িক বন্ধ রাখা।
ফিজিওথেরাপি ও ইন্টারভেনশন (দ্বিতীয় ধাপ):
Physiotherapy: আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, লেজার থেরাপি এবং ব্যথা কমে এলে টেনডন গ্লাইডিং এক্সারসাইজ।
Corticosteroid Injection: কনজারভেটিভ চিকিৎসায় কাজ না হলে ফার্স্ট ডরসাল কম্পার্টমেন্টে আল্ট্রাসাউন্ড গাইডেড স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা দ্রুত প্রদাহ কমায়।
সার্জিক্যাল ম্যানেজমেন্ট (সবশেষ ধাপ):
যদি সব চিকিৎসা ব্যর্থ হয়, তবে একটি ছোট ডে-কেয়ার সার্জারির (Surgical Release) মাধ্যমে টেনডনের ওপর চেপে থাকা টাইট শিথ বা ব্যান্ডটি কেটে রিলিজ করে দেওয়া হয়। এতে রোগী দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সুস্থ হয়ে
ওঠেন।
পরামর্শ: কবজির ব্যথাকে সাধারণ মচকানো ভেবে অবহেলা করবেন না। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাই দ্রুত আরোগ্যের চাবিকাঠি।
কিবোর্ড বা মোবাইলে সারাক্ষণ স্ক্রোল করার পর কি হাতের আঙুলগুলো অবশ বা ঝিনঝিন লাগে? 📱💻
যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে আপনার হয়তো কার্পাল টানেল সিনড্রোম (Carpal Tunnel Syndrome)
🔍 কার্পাল টানেল সিনড্রোম কী?
আমাদের হাতের কব্জির ভেতর দিয়ে একটি সরু পথ গেছে, যাকে বলা হয় 'কার্পাল টানেল'। এই টানেলের ভেতর দিয়ে যাওয়া মিডিয়ান নার্ভ (Median Nerve) কোনো কারণে চেপে গেলে বা চাপে পড়লে হাতের আঙুলে ব্যথা ও অবশ ভাব তৈরি হয়। এটিই কার্পাল টানেল সিনড্রোম।
⚠️ লক্ষণগুলো কী কী?
বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমায় অবশ ভাব বা সুই ফোটার মতো ঝিনঝিন করা।
হাতের কব্জি থেকে শুরু করে পুরো হাত বা বাহুতে ব্যথা হওয়া (বিশেষ করে রাতে ব্যথা বাড়তে পারে)।
হাতের গ্রিপ বা শক্তি কমে যাওয়া (হঠাৎ হাত থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া)।
🎯 মূলত কাদের এই ঝুঁকি বেশি?
যারা প্রতিদিন একটানা কব্জির একই রকম মুভমেন্ট করেন। যেমন—
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, রাইটার বা ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (একটানা টাইপিং)।
নিয়মিত গেমার বা অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারকারী।
দর্জি, শেফ, বা যারা কব্জি বাঁকিয়ে ভারী কাজ করেন।
কার্পাল টানেল সিনড্রোমের চিকিৎসা পদ্ধতি
অবস্থার তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা মূলত দুই ভাগে এর চিকিৎসা করে থাকেন: নন-সার্জিক্যাল (অপারেশন ছাড়া) এবং সার্জিক্যাল (অপারেশন সহ)।
১. প্রাথমিক ও নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা (লক্ষণ মৃদু থেকে মাঝারি হলে):
লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও স্প্লিন্টিং:
রাতে ঘুমানোর সময় এবং কাজ করার সময় Wrist Splint বা রিস্ট সাপোর্ট ব্যবহার করা হয়। এটি কব্জিকে সোজা রাখে, ফলে নার্ভের ওপর চাপ কমে। পাশাপাশি কাজের মাঝে হাতকে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি।
ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy):
কার্পাল টানেলের জন্য ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত কার্যকর। থেরাপিস্টরা নির্দিষ্ট কিছু আলতো স্ট্রেচিং, গ্লাইডিং এক্সারসাইজ এবং আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপির মাধ্যমে নার্ভের ওপর চাপ ও হাতের জড়তা কমিয়ে আনেন।
ওষুধ (Medication): প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে NSAIDs (যেমন- আইবুপ্রোফেন) বা ভিটামিন-বি (বিশেষ করে বি-১২, যা স্নায়ুকে সচল রাখতে সাহায্য করে) দেওয়া হতে পারে।
কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন (Corticosteroid Injection): ব্যথা ও ফোলাভাব তীব্র হলে সরাসরি কার্পাল টানেলে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়। এটি সাময়িকভাবে দ্রুত ব্যথা কমিয়ে দেয়।
২. সার্জিক্যাল চিকিৎসা (লক্ষণ গুরুতর হলে):
যদি কোনো থেরাপি বা ওষুধে কাজ না হয় এবং হাতের পেশি দুর্বল হতে শুরু করে, তখন চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। একে বলা হয় কার্পাল টানেল রিলিজ (Carpal Tunnel Release)। এটি সাধারণত দুইভাবে করা হয়:
ওপেন সার্জারি (Open Surgery): কব্জিতে ছোট একটু কেটে ভেতরের লিগামেন্টটি কেটে দেওয়া হয়, যাতে নার্ভটি চাপমুক্ত হয়ে পর্যাপ্ত জায়গা পায়।
এন্ডোস্কোপিক সার্জারি (Endoscopic Surgery): একটি ক্যামেরা ও বিশেষ ছোট যন্ত্রের সাহায্যে খুব সামান্য কেটে এই সার্জারি করা হয়। এতে ক্ষত দ্রুত শুকায় এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক কাজে ফিরতে পারেন।
ব্যাথামুক্ত উপায়ে নখ এর অপারেশন!
চেম্বার এ ঢুকতে প্রায় সন্ধ্যা ৭টা বেজে গেলো, ঢুকতে ই দেখি একজন ষাটোর্ধ্ব পুরুষ, হাতে সস্তা একটা এলবো ব্যাগ এ হাত ঝুলিয়ে রেখে বসে আছেন।
দেখা মাত্র ই ছুটে এলেন, বললেন "স্যার, গতকাল আসছিলাম,আপনারে পাই নাই। আজকে দুপুর ২টা থেকে বসে আছি আপনার জন্য। রিসিপশন এর ওরা প্লাস্টার এর জন্য অনেক টাকা চাইতেসে, এতো টাকা তো আমার কাছে নাই,আমি আপনার জন্য বইসা রইসি"
বললাম, "সমস্যা নাই। আপনার যতটুকু সামর্থ্য আছে দিয়েন,প্লাস্টার করে দিবো ইনশাহ আল্লাহ।"
এইজন্য,আমি এই সব প্রসিডিউর এর পে মেন্ট স্টাফ দিয়ে নেই না, রোগী দের কাছ থেকে ডিরেক্ট নেই। যাতে রোগী রা নিজের আর্থিক অবস্থার কথা আমাকে জানাতে পারে,আর আমি ও নাম মাত্র মুল্যে সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারি।
বাকি টা আল্লাহ ভরসা।
09/05/2026
🩺 Ureter: যখন প্রস্রাবের নালি ভুল পথে চলে! 🧬
সাধারণত আমাদের শরীরের ইউরেটার (Ureter) বা প্রস্রাবের নালিটি শিরার সামনে দিয়ে যায়। কিন্তু Retrocaval Ureter এমন একটি জন্মগত অস্বাভাবিকতা, যেখানে প্রস্রাবের নালিটি পেটের প্রধান শিরার (Inferior Vena Cava) পেছন দিয়ে ঘুরে আসে।
সহজ কথায়, নালিটি শিরার পেছনে আটকে গিয়ে "S" বা "J" আকৃতির হয়ে যায়, যার ফলে প্রস্রাব চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়।
🔍 #লক্ষণসমূহ কী কী?
অনেকের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ থাকে না, তবে সমস্যা বাড়লে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
পেটের একপাশে বা কোমরের দিকে ব্যথা (Flank Pain)।
বারবার প্রস্রাবে ইনফেকশন হওয়া।
প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া (Hematuria)।
কিডনিতে পানি জমা বা ফুলে যাওয়া (Hydronephrosis)।
কিডনিতে পাথর হওয়া।
🛠️ #কিভাবে নির্ণয় করা হয়?
লক্ষণ দেখে ডাক্তাররা সাধারণত কিছু পরীক্ষার পরামর্শ দেন:
IVU (Intravenous Urogram): এখানে প্রস্রাবের নালির সেই বিশেষ 'J' আকৃতি ধরা পড়ে।
CT Urogram: বর্তমান সময়ে এটি সবচেয়ে নির্ভুল পরীক্ষা।
USG: কিডনির ফোলা ভাব বুঝতে সাহায্য করে।
🏥 #ম্যানেজমেন্ট বা চিকিৎসা কী?
যদি কোনো ব্যথা বা কিডনির ক্ষতি না হয়, তবে অনেক সময় শুধু পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। কিন্তু লক্ষণ দেখা দিলে সার্জারি একমাত্র সমাধান।
Ureteroureterostomy: এটিই মূল চিকিৎসা। এখানে ইউরেটার বা নালিটিকে কেটে শিরার পেছন থেকে সামনে নিয়ে আসা হয় এবং পুনরায় জোড়া দেওয়া হয়।
💡 #শেষ কথা
কিডনি বা প্রস্রাবের যেকোনো সমস্যা অবহেলা করবেন না। সঠিক সময়ে ধরা পড়লে এবং চিকিৎসা নিলে কিডনিকে স্থায়ী ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।
আপনার যদি নিয়মিত কোমরের একপাশে ব্যথা হয়, তবে আজই একজন ইউরোলজিস্টের (Urologist) পরামর্শ নিন।
16/02/2026
ঘাড় ব্যথাকে অবহেলা করছেন না তো? 📱💻
দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার বা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকার ফলে আমাদের অনেকেরই এখন নিত্যসঙ্গী ঘাড় ব্যথা। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ' #সার্ভাইকাল #স্পন্ডালাইটিস' বলা হয়।
এর সাধারণ কিছু লক্ষণ:
✅ ঘাড় শক্ত হয়ে থাকা বা নাড়াতে কষ্ট হওয়া।
✅ ব্যথা ঘাড় থেকে কাঁধ বা হাতে ছড়িয়ে পড়া।
✅ মাঝেমধ্যে মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা।
✅ হাতে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অবশ ভাব অনুভূত হওয়া।
সময় থাকতে সচেতন হোন। দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে বসে না থেকে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন এবং ঘাড়ের হালকা ব্যায়াম করুন। ব্যথা তীব্র হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
#সার্ভাইকাল স্পন্ডালাইটিস থেকে দূরে থাকতে মেনে চলুন এই ৫টি অভ্যাস! 🧘♂️✨
১. সঠিক অঙ্গভঙ্গি: বসার সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। কম্পিউটার বা ফোনের স্ক্রিন চোখের লেভেলে রাখার চেষ্টা করুন।
২. বালিশের ব্যবহার: খুব বেশি উঁচূ বা খুব বেশি নরম বালিশ ব্যবহার করবেন না।
৩. বিরতি নিন: প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর পর অন্তত ২ মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়ান বা ঘাড় স্ট্রেচ করুন।
৪. ব্যায়াম: নিয়মিত ঘাড়ের স্ট্রেচিং এবং হালকা আইসোমেট্রিক এক্সারসাইজ করুন।
৫. ধূমপান বর্জন: ধূমপান হাড়ের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে, তাই এটি পরিহার করা জরুরি।
সুস্থ থাকুন, নিজের যত্ন নিন! ❤️
22/01/2026
#ডায়াবেটিক_ফুট— অবহেলা মানেই কি পা হারানো? (সার্জিক্যাল দৃষ্টিকোণ) 🩺🧤
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পা শরীরর সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। একজন সার্জনের চেম্বারে যখন একজন ডায়াবেটিক ফুট রোগী আসেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে দুটি: #জীবন_বাঁচানো এবং #অঙ্গ(Limb)বাঁচানো।
কেন ডায়াবেটিক ফুট এত জটিল?
সার্জিক্যাল প্যাথলজি অনুযায়ী এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ থাকে:
১. #নিউরোপ্যাথি: পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়া। ফলে ছোট চোট বা জুতার ঘর্ষণ থেকেও ক্ষত হয়, যা রোগী টেরই পান না।
২. #ভাস্কুলোপ্যাথি: রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়ায় পায়ে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। ফলে ক্ষত শুকানোর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন সেখানে পৌঁছাতে পারে না।
৩. #ইনফেকশন: উচ্চ রক্তচাপের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে সাধারণ ইনফেকশন খুব দ্রুত হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যায় (Osteomyelitis)।
কখন বুঝবেন সার্জনের পরামর্শ দ্রুত প্রয়োজন?
* পায়ের কোনো ক্ষত যা ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শুকাচ্ছে না।
* পায়ের চামড়া কালো হয়ে যাওয়া (Dry/Wet Gangrene)।
* পা ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া বা দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বের হওয়া।
* পায়ের হাড় বা টেন্ডন বাইরে থেকে দেখা যাওয়া।
#সার্জিক্যাল_ম্যানেজমেন্ট: আমরা যেভাবে চিকিৎসা করি
ডায়াবেটিক ফুটের চিকিৎসা শুধু মলম লাগানো নয়, এটি একটি পরিকল্পিত পদ্ধতি:
* #ডিব্রাইডমেন্ট (Debridement): পচা বা মৃত টিস্যু কেটে ফেলে দেওয়া যাতে সুস্থ টিস্যু বাড়তে পারে।
* #ভাস্কুলার অ্যাসেসমেন্ট: ডপলার স্টাডি বা এনজিওগ্রামের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন পরীক্ষা করা।
* োডিং: বিশেষ জুতা বা প্লাস্টারের মাধ্যমে ক্ষতের ওপর চাপ কমানো।
* #অ্যাম্পুটেশন (Amputation): যখন পচন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ার (Sepsis) ঝুঁকি থাকে, তখন জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আক্রান্ত অংশটি কেটে বাদ দিতে হয়।
#সার্জনের পরামর্শ (প্রতিরোধই সেরা চিকিৎসা):
✅ প্রতিদিন আয়না দিয়ে পায়ের তলা পরীক্ষা করুন।
✅ খালি পায়ে হাঁটা একদম বন্ধ করুন (এমনকি ঘরের ভেতরেও)।
✅ নখ কাটার সময় খুব সাবধান থাকুন যাতে চামড়া না কাটে।
✅ সবসময় নরম ও সঠিক মাপের জুতা (Diabetic Footwear) ব্যবহার করুন।
#মনে_রাখবেন: ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের একটি ছোট ফোসকা বা ক্ষতকেও অবহেলা করবেন না। দ্রুত একজন জেনারেল বা ভাস্কুলার সার্জনের পরামর্শ নিন।
21/01/2026
🏥 হার্ণিয়া ( ): লক্ষণ, কারণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন
অনেকেই আমরা 'হার্ণিয়া' শব্দটির সাথে পরিচিত, কিন্তু এটি আসলে কেন হয় বা কখন এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে আমাদের অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ।
🔍 হার্ণিয়া আসলে কী?
সহজ কথায়, শরীরের কোনো অঙ্গ বা চর্বি যদি কোনো ছিদ্র বা দুর্বল পেশির ভেতর দিয়ে তার নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে, তবে তাকে হার্ণিয়া বলা হয়। এটি সাধারণত পেট বা কুঁচকিতে বেশি দেখা দেয়।
🚩 হার্ণিয়ার সাধারণ লক্ষণসমূহ:
* পেটের কোনো অংশ বা কুঁচকি( ) ফুলে যাওয়া (শুয়ে থাকলে অনেক সময় ফোলাটি চলে যায়)।
* ভারী কিছু তোলার সময় বা কাশলে আক্রান্ত স্থানে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
* ফোলা স্থানে অস্বস্তি বা টেনে ধরার মতো অনুভূতি।
* দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
⚠️ কেন হার্ণিয়া হয়?
পেশি দুর্বল হওয়া বা পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়াই এর মূল কারণ। যেমন:
১. বংশগত কারণ বা জন্মগত ত্রুটি।
২. দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য বা পুরনো কাশির সমস্যা।
৩. ভারী ওজন তোলা বা কঠোর পরিশ্রম করা।
৪. প্রোস্টেটের সমস্যার কারণে প্রস্রাবে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া।
৫. স্থূলতা বা শরীরের অতিরিক্ত ওজন।
🛠️ প্রতিকার ও চিকিৎসা:
মনে রাখবেন, হার্ণিয়া কোনো ওষুধের মাধ্যমে সেরে যায় না। ব্যায়াম বা বেল্ট ব্যবহারে এটি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে অপারেশন। বর্তমানে ল্যাপারোস্কোপিক (ছিদ্র করে) সার্জারি বা ওপেন সার্জারির মাধ্যমে খুব সহজেই হার্ণিয়া নিরাময় সম্ভব।
> সতর্কতা: যদি হঠাৎ হার্ণিয়ার জায়গায় প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়, বমি হয় বা ফোলা অংশটি আর ভেতরে না যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি ইমার্জেন্সি হতে পারে।
>
সুস্থ থাকতে শরীরের সংকেতগুলোকে অবহেলা করবেন না। সচেতনতা ছড়িয়ে দিন, সুস্থ থাকুন। ❤️
#সচেতনতা #হার্ণিয়া #স্বাস্থ্যকথা
17/01/2026
কেলোয়েড ( ) কি? কেন হয় এবং এর সমাধানই বা কী? 🩹🩺
আমাদের অনেকেরই শরীরে ছোট কোনো ক্ষত, সার্জারির দাগ কিংবা কান ফোঁড়ানোর জায়গা থেকে চামড়া ফুলে শক্ত হয়ে যায়। একেই আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলি ‘কেলোয়েড’ ( )। এটি সাধারণ স্কার বা দাগের চেয়ে আলাদা, কারণ এটি ক্ষতের সীমানা ছাড়িয়ে বৃদ্ধি পায়।
#কেন হয় এই সমস্যা? 🧬
আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন কোনো ক্ষত সারাতে গিয়ে অতিরিক্ত কোলাজেন (Collagen) তৈরি করে ফেলে, তখনই এই বাড়তি মাংসপিণ্ড বা কেলোয়েড তৈরি হয়। এটি সাধারণত জেনেটিক কারণে হতে পারে।
#চিকিৎসা কোন পথে? 💉🔪
সার্জন হিসেবে আমরা কেলোয়েড চিকিৎসায় কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করি:
* #ইঞ্জেকশন (Intralesional Steroid): এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। বিশেষ ধরনের ইঞ্জেকশন দিলে কেলোয়েড আস্তে আস্তে নরম হয় এবং চ্যাপ্টা হয়ে যায়।
* #সিলিকন জেল বা শিট: শুরুর দিকে এটি ব্যবহার করলে কেলোয়েড বাড়ার প্রবণতা কমে।
* #সার্জারি (Surgical Removal): যদি কেলোয়েড অনেক বড় হয়ে যায়, তবে সার্জারি করে এটি ফেলে দেওয়া যায়। তবে সাবধান! শুধু সার্জারি করলে কেলোয়েড আবার ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় ৭০-১০০%।
* #কম্বিনেশন থেরাপি: সার্জারির পরপরই ইঞ্জেকশন বা প্রেসার থেরাপি নিলে এটি ফিরে আসার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
#সতর্কতা: 🚫
যাদের কেলোয়েড হওয়ার প্রবণতা আছে, তারা অপ্রয়োজনে কান ফোঁড়ানো, ট্যাটু করা বা কসমেটিক সার্জারি এড়িয়ে চললে ভালো। আর যেকোনো দাগ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখলে দেরি না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা প্লাস্টিক সার্জনের পরামর্শ নিন।
আপনার শরীরেও কি এমন কোনো দাগ আছে যা আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলছে? কমেন্টে জানান অথবা ইনবক্স করুন।
#চর্মরোগ #কেলোয়েড
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
3450
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when Dr. Atiar Rahman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.